ঢাকা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের দাবি: চুক্তি ইতিমধ্যে সই হয়েছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ইতিমধ্যে সই হয়েছে এবং সেটি শিগগিরই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ জুন ২০২৬) জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প এ কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে।

‘খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে’

সমঝোতা স্মারকের নথি কবে প্রকাশ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, “সম্ভবত খুব শিগগির। আমি বলব, শুক্রবারের পর কোনো এক সময়… আমি মনে করি, খুব নিকট ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এটি প্রকাশ করা হবে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে চুক্তির স্বচ্ছতা ও সময়সূচি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি

সূত্র অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।

ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলের এভিয়ান-লে-বেঁ থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরকে কূটনৈতিক বৈঠকের সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্বচ্ছতা নিয়ে কংগ্রেসের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পূর্ণ স্বচ্ছতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কী অর্জন করেছে এবং এতে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে কি না।

শুমারের মতে, কংগ্রেসকে এ বিষয়ে অবহিত না করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

চুক্তি ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই হামলাকে চলমান পরিস্থিতির নাজুকতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

যুদ্ধের বিস্তার ও আঞ্চলিক জটিলতা

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ।

এরপর থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

সমঝোতা ও মতবিরোধ

ইরান দাবি করেছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার একটি মৌলিক শর্ত। তবে ইসরায়েল বলছে, তাদের সামরিক পদক্ষেপ আত্মরক্ষার অংশ এবং এ অধিকার তারা বজায় রাখবে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই।

তিনি বলেন, এটি মূলত একটি যুদ্ধবিরতি কাঠামো, যা একতরফা নয়। অর্থাৎ, যদি হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় এবং ইসরায়েলে হামলা হয়, তাহলে ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার থাকবে।

অনিশ্চিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

চুক্তি কার্যকর হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি এটিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রেখেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স