ঢাকা

শিক্ষার মানোন্নয়নে কারিকুলামসহ চার স্তম্ভে পরিবর্তন আনা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কারিকুলাম আধুনিকায়নসহ চারটি মূল স্তম্ভ এবং একটি নতুন উপাদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে কারিকুলামের পরিবর্তন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জলবায়ু–সহনশীল অবকাঠামো, বিভিন্ন শিক্ষাধারার মধ্যে সমন্বয় এবং প্রযুক্তির ব্যবহার—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত কেমব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের লঞ্চ ইভেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্বমানের নাগরিক তৈরিতে নতুন ভিশন

অনুষ্ঠানে ববি হাজ্জাজ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, এই ভিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই শুধু প্রচলিত জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষার চার স্তম্ভে গুরুত্ব

শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে চারটি প্রধান ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর মধ্যে রয়েছে—

প্রথমত, কারিকুলামের আধুনিকায়ন।
শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন।
শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনের জন্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তৃতীয়ত, জলবায়ু–সহনশীল অবকাঠামো।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলেন তিনি।

চতুর্থত, বিভিন্ন শিক্ষাধারার মধ্যে সমন্বয়।
দেশের বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে একটি ন্যূনতম মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এর পাশাপাশি নতুন উপাদান হিসেবে প্রযুক্তির সংযোজন—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

২৭টির বেশি শিক্ষাধারায় অভিন্ন মানদণ্ডের লক্ষ্য

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশে ২৭টিরও বেশি শিক্ষাধারা চালু রয়েছে। এসব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—সবাই যেন মৌলিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।

শিক্ষাব্যবস্থায় বিভাজন কমিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি শিক্ষক

শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক ছাড়া কোনো শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে না।

তিনি বলেন, “চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়াও কোনো শিক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না।”

দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কেমব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তার মতে, দক্ষ শিক্ষক তৈরি ছাড়া শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকদের জ্ঞান, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আধুনিক পাঠদান পদ্ধতিতে দক্ষ করে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় শিক্ষার মান উন্নয়ন

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের বহুমাত্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে ঘোষিত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রশিক্ষিত জনবল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স