নারী কর্মীদের প্রসূতি ছুটি সংক্রান্ত বিদ্যমান কিছু বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বিশেষ করে চাকরিজীবনে দুইবারের বেশি মাতৃত্বকালীন ছুটি না পাওয়া এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময় কাজ না করলে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আবেদনে শ্রম আইন ও সরকারি চাকরির বিধিমালার কয়েকটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়ে আদালতের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান কিছু বিধান অনুযায়ী একজন নারী কর্মী চাকরিজীবনে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময় চাকরি না করলে তিনি প্রসূতি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। এসব শর্ত নারীদের অধিকার ও সমতার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আবেদনকারীর যুক্তি, মাতৃত্বজনিত শারীরিক ও মানসিক চাহিদা সন্তানের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে বদলে যায় না। প্রথম সন্তান হোক বা পরবর্তী সন্তান—প্রসব, চিকিৎসা, বিশ্রাম ও নবজাতকের যত্নের প্রয়োজন একই ধরনের। তাই সন্তানের সংখ্যা বা চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে এই সুবিধা সীমিত করা বৈষম্যমূলক হতে পারে।
রিটে বলা হয়েছে, সংবিধানে সমতা ও বৈষম্যহীনতার যে নীতি স্বীকৃত, আলোচিত বিধানগুলো তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা বিচারিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
আইনজীবীর মতে, মাতৃত্ব কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি কর্মজীবী নারীদের মৌলিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যগত অধিকারের অংশ। ফলে মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি মানবিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ আইন, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে আদালতের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
এই রিটের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার ও মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আইনি ও সামাজিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।