জাতীয় সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে প্রচলিত ‘মাথা ঝোঁকানো’ বা বো করার রীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয় এবং অতীতে এ বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধিতেও সংশোধনী আনা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন। তার বক্তব্য ঘিরে সংসদে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও ব্যাখ্যা দেন স্পিকার।
‘মাথা ঝোঁকানো’ নিয়ে অতীত বিধি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা
মুজিবুর রহমান সংসদে বলেন, তৃতীয় জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের বিধান ছিল। পরবর্তীতে সেটি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা হয়।
তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি শিরকের পর্যায়ে পড়ে—এ কারণে বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে প্রবেশের সময় বর্তমানে সালাম দেওয়ার প্রচলন থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো রীতি (মাথা ঝোঁকানো) এখনো দেখা যায়। বিষয়টি কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সবার অনুসরণ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্পিকারের ব্যাখ্যা: বিষয়টি ব্যক্তিগত আচরণের অংশ
এ বিষয়ে সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে বলেন, বিষয়টি কার্যপ্রণালি বিধির বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখা হবে।
স্পিকার বলেন, সংসদে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া বা মাথা ঝোঁকানো—এ ধরনের আচরণ মূলত ব্যক্তিগত শিষ্টাচারের বিষয়। বিভিন্ন সংসদ ও দেশে এ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন রীতি প্রচলিত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, অতীত সংসদে এই বিধানটি সত্যিই বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করে পরে জানানো হবে।
সংসদীয় রীতি ও শিষ্টাচার নিয়ে নতুন বিতর্ক
সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে একটি নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সাধারণভাবে জাতীয় সংসদে প্রবেশের সময় সদস্যরা হাউস ও স্পিকারের প্রতি সম্মান জানাতে সালাম বা মাথা নত করার মতো রীতি অনুসরণ করে থাকেন।
তবে এই বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরায় বিষয়টি এখন সংসদীয় শিষ্টাচার ও কার্যপ্রণালি বিধির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংসদের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হলে ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত বিধি আরও স্পষ্ট হতে পারে।