যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০ ডলারের নিচে
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে যায়। সর্বশেষ দর ছিল প্রায় ৭৯ দশমিক ৯০ ডলার, যা গত মার্চের পর সবচেয়ে কম।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। তুলনামূলকভাবে বর্তমান দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত শুরুর আগেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাধারণত ৭০ ডলারের আশপাশে স্থিতিশীল ছিল।
বাজারে ইতিবাচক প্রভাবের মূল কারণ
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, দাম কমার প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি ঘিরে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা হ্রাস পাওয়া।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি শুরু করতে পারবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি করেছে, যার ফলে তেলের দাম দ্রুত কমে যায়।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু তেলের দাম নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছিল।
তেলের দাম বাড়ার কারণে বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, জ্বালানির দাম এবং ভোগ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অনেক দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর চাপের মুখে পড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে।
সামনে কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ইরানের তেল সরবরাহ বাজারে পুরোপুরি ফেরার ওপরই আগামী দিনের দামের প্রবণতা নির্ভর করবে।
যদি সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তবে তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে নতুন কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিলে বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি ফিরিয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এখনো অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।