ঢাকা

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনা: ভর্তি থেকে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ গাইড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান Massachusetts Institute of Technology (এমআইটি) বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বৈশ্বিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০২৬ সালেও প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান করছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে এমআইটি এখনো উচ্চশিক্ষার অন্যতম কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।

তবে এমআইটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—এখানে পড়াশোনার খরচ কত?

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট খরচ

এমআইটির প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থীর এক বছরের সম্ভাব্য মোট খরচ প্রায় ৯২ হাজার ৭২০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২০ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এই খরচের মধ্যে শুধু টিউশন নয়, আবাসন, খাবার, বই ও ব্যক্তিগত ব্যয়ের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খরচের প্রধান খাত

টিউশন ফি:
প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৬৬ হাজার ৭২০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ লাখ ৬ হাজার টাকা।

স্টুডেন্ট লাইফ ফি:
প্রায় ৪২০ ডলার বা ৫০ হাজার ৪০০ টাকা।

আবাসন খরচ:
প্রায় ১৪ হাজার ৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

খাবারের খরচ:
প্রায় ৮ হাজার ১০৪ ডলার বা ৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

বই ও শিক্ষাসামগ্রী:
প্রায় ৯৩০ ডলার বা ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা।

ব্যক্তিগত খরচ:
প্রায় ২ হাজার ৪৯৬ ডলার বা ২ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা।

আর্থিক সহায়তার সুযোগ

উচ্চ খরচের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এমআইটিতে পড়াশোনা কঠিন মনে হলেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে শক্তিশালী চাহিদাভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা।

এমআইটি শিক্ষার্থীর পারিবারিক আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি কমানো থেকে শুরু করে আবাসন ও খাবারের খরচের জন্যও সহায়তা পেতে পারেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের কম, তারা টিউশন ফি সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে আবাসন ও খাবারের ব্যয়ের একটি বড় অংশও সহায়তার আওতায় আসতে পারে।

মেধাবীদের জন্য সুযোগ

এমআইটিতে পড়াশোনার ব্যয় বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেশি হলেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সহায়তা নীতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। ফলে শুধু আর্থিক সক্ষমতা নয়, শিক্ষার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেও উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ পাওয়া সম্ভব।

ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার আগ্রহ, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং সৃজনশীল চিন্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই এমআইটিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন শক্তিশালী একাডেমিক প্রস্তুতি নিতে হয়, অন্যদিকে আর্থিক সহায়তার সুযোগগুলো সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স