ঢাকা

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে উদ্বেগ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের, বলছে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে বিগত পাঁচ দশকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ‘লুটপাট ও পাচারমুখী’ এবং ‘উৎপাদনবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দলটির দাবি, এই বাজেট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষারও পরিপন্থি।

শুক্রবার (২০ জুন) রাজধানীর তোপখানা রোডে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা প্রস্তাবিত বাজেটের বিকল্প রূপরেখাও তুলে ধরে।

‘বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি’

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের অবনতি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তার মতে, বর্তমান বাজেট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হবে এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

হাসনাত কাইয়ূম আরও বলেন, অর্থনীতিকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে এনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বাজেটে মৌলিক সংস্কার জরুরি।

তিনি বাজেট বাস্তবায়নে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদাবনতির মতো ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন।

‘কর্মসংস্থানই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বাজেট প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘কর্মসংস্থানই উন্নয়ন’।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজেট সেই দিকনির্দেশনা অনুসরণ করছে না, বরং এটি একটি প্রচলিত কাঠামোর পুনরাবৃত্তি।

বিকল্প বাজেট প্রস্তাব ও সংস্কার দাবি

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন তাদের বিকল্প বাজেট প্রস্তাবে করব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়—

করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা
উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর অধিক হারে কর আরোপ
কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা

এছাড়া কর্মসংস্থান বাড়াতে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা খাতে কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

ব্যয় সংকোচন ও খাতভিত্তিক সংস্কার

সংগঠনটি সরকারি অপচয় কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের দাবি জানায়। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়।

তাদের প্রস্তাবে আরও রয়েছে—

স্বাস্থ্য কার্ড চালু
শিক্ষা ভাউচার ব্যবস্থা প্রবর্তন
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য সহজ শর্তে ঋণ
কৃষি সমবায় শক্তিশালীকরণ
কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণ
কৃষি ভর্তুকি সম্প্রসারণ
সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক গ্রিন এনার্জি গ্রিড গড়ে তোলা
সংগঠনের অন্যান্য বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল। এতে আরও বক্তব্য দেন দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুর কাদির এবং শাহাবুদ্দিন কবিরাজ।

এছাড়া বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন এবং অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক জালালউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির মতে, বর্তমান বাজেট কাঠামো পরিবর্তন না হলে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কর্মসংস্থান সংকট আরও গভীর হবে। তাই তারা অবিলম্বে বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স