ঢাকা

সুড়ঙ্গে লুকিয়েও রক্ষা হয়নি, ১৮ ঘণ্টা অভিযানের পর আটক কথিত প্রতারক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, ব্যবসায় উচ্চ মুনাফার লোভ, গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় এবং কোরবানির পশু সরবরাহের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মির্জা আবুল বাশার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পিত অভিযানের পর গুলশান এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে আগে থেকেই একাধিক মামলা চলমান ছিল। বিশেষ করে গাড়ি কেনাবেচার নামে অর্থ আত্মসাতের একটি মামলার পর থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তবে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ভবনের ভেতরে থাকা একটি গোপন পথ বা সুড়ঙ্গে আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর টানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে ওই স্থান থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। শনিবার দুপুরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস, আইনি জটিলতা থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি, লাভজনক বিনিয়োগের প্রস্তাব এবং বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচার নামে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণা মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স