আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এক সাক্ষী দাবি করেছেন, গুম অবস্থায় আটক রেখে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সাক্ষী মাহমুদুল হাসান জানান, ২০১৬ সালের জুন মাসে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয় এবং জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আটক অবস্থায় তাঁকে অধিকাংশ সময় হাতকড়া পরিয়ে রাখা হতো। দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। চোখ বেঁধে রাখার কারণেও শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষীর দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বৈদ্যুতিক শকসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এসব ঘটনার ফলে শারীরিকভাবে গুরুতর কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান।
তিনি আরও বলেন, আটক হওয়ার প্রায় এক মাস পর তাঁর চুল ও দাড়ি কেটে দেওয়া হয়। পরে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে তাঁকে একটি থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার কয়েকটিতে তিনি খালাস পেলেও কিছু মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান।
মাহমুদুল হাসান তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, তাঁকে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার সদস্যরা জড়িত ছিলেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় র্যাবের একটি জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে গুম করে রাখার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একাধিক সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। মামলার কয়েকজন আসামি বর্তমানে আটক অবস্থায় রয়েছেন, আর কয়েকজন এখনো পলাতক বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে।