ঢাকা

গোবিপ্রবিতে ১৭ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) মোট ১৭ জন শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ১৬ জন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও পিএইচডি-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আরও একজন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা হয়েছে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় বিদেশে শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের বিষয়ে আলোচনা হয়। ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একাধিকবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে ফিরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলেও ১৬ জন শিক্ষক তা অনুসরণ করেননি। এ কারণে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার এবং প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস। এছাড়া পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম (কলি), রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবব্রত পাল, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন, অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন।

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরিচ্যুত এসব শিক্ষককে শিক্ষাছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সব ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ফেরত দিতে হবে।

অন্যদিকে, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি ভঙ্গ এবং নৈতিক অসদাচরণের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁর চাকরিচ্যুতি ২৩ জুন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর চলতি বছরের এপ্রিলে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, থিসিস ডিফেন্সের সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেননি। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে রিজেন্ট বোর্ড তাঁকে অভিযোগে দায়ী বলে সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা আর্থিক সুবিধাও বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স