দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের উপযোগী ‘হ্যাচিং এগ’ বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাই এমিরেটসের একটি কার্গো ফ্লাইটে এসব ডিম নাইজেরিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক হ্যাচিং এগ রপ্তানির চালান। দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস লিমিটেড এই চালানের মাধ্যমে নাইজেরিয়ায় মোট ১০ হাজার ৪৪০টি ‘রোস ৩০৮ ব্রয়লার’ জাতের প্যারেন্ট হ্যাচিং এগ পাঠিয়েছে। চালানটির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৮ হাজার ৭২৯ মার্কিন ডলার।
মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দেশের পোলট্রি খাতের জন্য এটি একটি নতুন মাইলফলক, কারণ এর আগে বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের ডিম বিদেশে রপ্তানি করা হয়নি।
এ উপলক্ষে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। তাঁর মতে, প্রাণিসম্পদ খাতও ধীরে ধীরে রপ্তানিনির্ভর শিল্পে পরিণত হচ্ছে এবং হ্যাচিং এগ রপ্তানির এই উদ্যোগ সেই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন ও শারমিন সামাদ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জিশান হাসান ও কাজী জাহিন হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।