ঢাকা

অস্বাভাবিক গরমে ইউরোপে ১৩০০ মৃত্যু, জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিবিসি

গ্রীষ্মের শুরুতেই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপ। তীব্র গরমের কারণে মহাদেশজুড়ে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, ২১ জুন থেকে ইউরোপে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত ১ হাজার ৩০০-এর বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, তীব্র তাপমাত্রাজনিত চাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, এর প্রভাব ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে দেখা দেয় এবং বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

তেদরোস আধানোম বলেন, ইউরোপে লাখ লাখ মানুষ এখন চরম গরমের মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাপপ্রবাহের কারণে স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার তুলনায় ইউরোপে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ। তাঁর মতে, একসময় যে ধরনের তাপপ্রবাহ কয়েক দশকে একবার দেখা যেত, এখন তা প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে।

রেকর্ড তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত ইউরোপ

তীব্র এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর মধ্যেই রোববার জার্মানি, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে।

জার্মানিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম দিনের রেকর্ড হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজ্যের কোশেন এলাকায় স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

চেক প্রজাতন্ত্রেও তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটির আবহাওয়া ইনস্টিটিউট সিএইচএমআই জানিয়েছে, প্রাগের উত্তরে ডোকসানি এলাকায় তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোববার এই তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এরপর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ভারী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

পোল্যান্ডেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে। দেশটির সলুবিস শহরে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইনস্টিটিউট অব মেটিওরোলজি অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (আইএমজিডব্লিউ)।

ফ্রান্সে প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু

তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে দেশটিতে প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর বড় অংশই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকলে শরীরে পানিশূন্যতা, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সতর্কতা

ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন মাত্রার তাপমাত্রা মোকাবিলার উপযোগী করে নির্মিত নয়। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং সামাজিক অবকাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি এখন বাস্তব ও চলমান সংকট। ইউরোপের চলমান তাপপ্রবাহ সেই সংকটের একটি বড় উদাহরণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স