ঢাকা

কণ্ঠভোটে প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি, বিরত থাকার নির্দেশ স্পিকারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদে অর্থবিলের সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর কণ্ঠভোটে অংশ নিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে নিষেধ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ভোট দেওয়ার অধিকার নেই—এ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটে অংশ না নিতে বলেন স্পিকার।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অর্থবিলের দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির সময় এ ঘটনা ঘটে।

আমিনুল হক সংসদ সদস্য নন; তিনি টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারের দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে, আলোচনায় অংশ নিতে এবং বক্তব্য দিতে পারেন। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় কোনো ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

অর্থবিলের সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণের সময় বিষয়টি স্পিকারের নজরে আসে। পরে তিনি আমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্পিকার বলেন, “ইউ ক্যান নট ভোট ফর নাইদার ইয়েস নর নো। কারণ, আপনি দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত নন। আপনি সংসদে থাকলে (সংসদ সদস্য) আরও খুশি হতাম। তবে এসব ভোটিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন না, অনুগ্রহ করে।”

স্পিকারের এ মন্তব্যের মাধ্যমে টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রীর সাংবিধানিক অবস্থান ও সংসদীয় ভোটাধিকারের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আবারও সামনে আসে।

কণ্ঠভোট নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের রসিকতা

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের সময় বিরোধী দলের সদস্যদের কণ্ঠস্বর নিয়ে হাস্যরস করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের সময় বিরোধী বেঞ্চ থেকে ‘না’ ধ্বনি তুলনামূলকভাবে কম শোনা যায়।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার হাসতে হাসতে বলেন, “আওয়াজ কম। আওয়াজ কম। বোঝা গেছে, টায়ার্ড সবাই, আওয়াজ কম। আমরা তাড়াতাড়ি শেষ করব। ডোন্ট ওরি।”

ডেপুটি স্পিকারের এ মন্তব্যে সংসদে কিছুটা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।

‘আওয়াজ মাপার মেশিন বসানো যেতে পারে’

পরে অধিবেশনের শেষ দিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ডেপুটি স্পিকারের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, হ্যাঁ-না ভোটে কার আওয়াজ বেশি বা কম, তা নির্ধারণের জন্য একটি মেশিন বসানো যেতে পারে।

হাস্যরসের ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “আপনি যদি বড় করে বলতে বলেন আর সঙ্গে সঙ্গে যদি বলেন, আওয়াজ বড় হলে সংখ্যায় যা হবে হোক, আমরা অবশ্যই আওয়াজ বড় হলেই পাস করব—এটা যদি বলেন, তাহলে আওয়াজটা কী হয়, এটা একটু পরীক্ষা করে দেখবেন আগামীকাল।”

তাঁর এ বক্তব্যেও সংসদে হাসির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অর্থবিলের দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পাশাপাশি সোমবারের অধিবেশনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাজেট বরাদ্দ নিয়েও আলোচনা ও ভোট গ্রহণ করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স