ঢাকা

কালেমাখচিত পতাকার অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়: ধর্মমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পবিত্র কালেমাখচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অবমাননা, বিভ্রান্তি কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে যেকোনো অপব্যবহার বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘পবিত্র কালেমাখচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওলামা-মাশায়েখদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্মমন্ত্রী সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিস্তারিত তুলে ধরে।

‘ধর্মীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে’

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং এর মূল ভিত্তি পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ। ইসলামের মৌলিক শিক্ষার বাইরে নতুন কোনো মতবাদ বা বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা মুসলিম সমাজ গ্রহণ করবে না।

তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)–এর আদর্শের বাইরে কোনো নতুন মতবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।

একই সঙ্গে তিনি আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ এবং ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে কালেমাখচিত পতাকার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বিভিন্ন আলেম-ওলামার অংশগ্রহণ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা, মসজিদ এবং ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আলেম-ওলামারা অংশ নেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

‘ধর্মীয় অনুভূতি থেকে পতাকা বহন করলেও বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে’

আলোচনায় অংশ নেওয়া আলেম-ওলামারা বলেন, ধর্মপ্রাণ অনেক তরুণ আন্তরিক ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই কালেমাখচিত পতাকা বহন করেন। তবে পরবর্তীকালে একটি বিশেষ মহল বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার চেষ্টা করছে।

তাঁদের মতে, কোথাও কোথাও কালেমাখচিত পতাকার অনুপযুক্ত ব্যবহার কিংবা বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে তরুণদের আরও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি ইসলামের পবিত্র প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষায় সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।

আলোচকরা আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে যদি কেউ সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করবে।

ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের বিষয়েও সতর্কতা

সভা শেষে ‘পবিত্র কালেমাখচিত পতাকার সম্মান রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপ ফুটবল, হিজরি নববর্ষ উদ্‌যাপন এবং কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণহারে কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, পবিত্র কালেমা মুসলমানদের ঈমানের মূল ভিত্তি হলেও বর্তমান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কালেমালিখিত নির্দিষ্ট ধরনের কালো পতাকা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।

ঘোষণাপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন কোনো গোষ্ঠী এ ধরনের কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারে। এর ফলে ইসলাম, মুসলিম সমাজ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শরিয়তে বৈধ হলেও ব্যবহারে সংযমের পরামর্শ

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কালেমাখচিত পতাকা তৈরি ও উত্তোলন মূলত বৈধ (জায়েজ)। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব পতাকার ব্যাপক ব্যবহার এবং তরুণদের হাতে হাতে বহনের ফলে প্রতিবেশী দেশ বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুল ব্যাখ্যা কিংবা নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

এ কারণে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীল ও সচেতন আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অবহেলায় পবিত্রতার অবমাননার আশঙ্কা

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে গণহারে ব্যবহৃত কালেমাখচিত পতাকা অনেক সময় ছিঁড়ে যাওয়া, অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা কিংবা পদদলিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ধরনের পরিস্থিতিকে পবিত্র কালেমার মর্যাদার পরিপন্থী উল্লেখ করে বলা হয়, অনেক মুসলিম স্কলার এ কারণেই পতাকায় কালেমা লিখে গণহারে ব্যবহারের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন।

ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, খেলাধুলা বা সাধারণ জনসমাগমে ব্যাপকভাবে কালেমাখচিত পতাকা ব্যবহারের ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে এর পবিত্র মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জাতীয় পতাকা অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা ধর্মীয় অবমাননার বিষয় নয়; কিন্তু কালেমাসংবলিত পতাকা ময়লা-আবর্জনায় পড়ে থাকা বা পদদলিত হলে তা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।

বিশিষ্ট আলেমদের অংশগ্রহণ

মাওলানা ওয়ালীয়ুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর), মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, অধ্যাপক মিজানুর রহমান (পীর সাহেব, দেওনা), মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা, মুফতি আজহারুল ইসলাম, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতি ইমাদুদ্দিন, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা এজহারুল হক, মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুণবী, মাওলানা আহমদ রফিকসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স