ঢাকা

গুলিস্তানে জামায়াতের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, বিএনপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলার জন্য বিএনপির নেতা–কর্মীদের দায়ী করেছে জামায়াত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির স্থানীয় নেতারা উল্টো দাবি করেছেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরাই প্রথম হামলা চালিয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভারের নিচে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জামায়াতের অভিযোগ: চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মিছিলে হামলা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্তান এলাকায় বিএনপির নেতা–কর্মীরা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, সম্প্রতি নগর প্লাজা মার্কেটে তালা লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং কম্পিউটার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতা চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে ফুলবাড়িয়ার বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

আবদুস সাত্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতা–কর্মীরা সেখানে জড়ো হওয়ার পর বিএনপির নেতা–কর্মীরা লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।

তিনি দাবি করেন, হামলায় ১৫ থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী ও জামায়াতের নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ছুরিকাহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে মো. কবির আহমেদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ছুরিকাহত হয়েছেন।

তিনি গুলিস্তান ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং পেশায় মোবাইল যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

বিএনপির দাবি: আগে হামলা করেছে জামায়াত

জামায়াতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা ফুলবাড়িয়া ক্লাবে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়ে হামলা চালান বলে তিনি শুনেছেন।

মোহাম্মদ মামুন বলেন, পরে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। তাঁর দাবি, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোনো দ্বন্দ্ব নেই এবং তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

মার্কেট দখলের অভিযোগও অস্বীকার

নগর প্লাজা মার্কেট দখলের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, শ্রম অধিদপ্তর সরকারিভাবে পাঁচজনকে মার্কেট পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে যুবদলের এক নেতা প্রশাসনের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

তাঁর ভাষ্য, এটি ছিল সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ। কোনো ব্যক্তি বা দল মার্কেট দখল করতে যায়নি।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

তবে তাঁর দাবি, ঘটনাটি বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না বা এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স