বেসরকারি ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি)-এর চলমান অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ গঠন করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গত ৫ জুলাই জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমতিক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।
অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের নিয়ে প্রশাসনিক বোর্ড
সরকার গঠিত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলামকে।
বোর্ডের অন্য দুই সদস্য হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ আল-মামুন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনজুরুল আলম।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রাষ্ট্রপতি নিয়োজিত কোনো উপাচার্য থাকলে তিনি পদাধিকারবলে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক বছরের জন্য দায়িত্ব, প্রয়োজনে বাড়তে পারে মেয়াদ
প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, বোর্ডের সভাপতি ও দুই সদস্যকে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠন সম্ভব না হলে বিশেষ পরিস্থিতিতে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের মেয়াদ আরও ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে আচার্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবে প্রশাসনিক বোর্ড
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর বিধান অনুসারে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবে।
অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিচালনা এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য আইন অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজ যে ক্ষমতা ভোগ করে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করবে প্রশাসনিক বোর্ড।
নিয়মিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠনের দায়িত্ব
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি নিয়মিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠন করবে এবং তা অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে পাঠাবে।
আচার্য নতুন বোর্ড অব ট্রাস্টিজ অনুমোদন করলে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব নতুন ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ইউজিসির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও অগ্রগতি প্রতিবেদন
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসকে ইউজিসির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বোর্ডকে প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার ইউজিসির চেয়ারম্যান অথবা তাঁর মনোনীত কোনো সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে।
এ ছাড়া, প্রতি তিন মাস অন্তর বোর্ডকে নিজেদের কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ সংবলিত একটি প্রতিবেদন আচার্যের কাছে জমা দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা ও বিরোধের কারণে যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত একটি নিয়মিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।