ঢাকা

বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশনে সেরাদের সম্মাননা দিল ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি) আয়োজিত ‘বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশন–২০২৬: ইনোভেশন ফর সাসটেইনেবল গ্রোথ’–এর বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাউন্ডিং ট্রেজারার মরশেদা চৌধুরী অডিটোরিয়ামে। অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্প খাতের প্রতিনিধি, বিচারক, মেন্টর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আয়োজক কমিটির সদস্যসহ ১২৬ জনের বেশি অতিথি ও অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক জাকি ইমাম। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, নিষ্ঠা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের নতুন ধারণা বাস্তবায়নের সাহস জোগায় এবং তাদের পেশাগত দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের দক্ষ উদ্যোক্তা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বিকাশেও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”

অনুষ্ঠানে অতিথি অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সরকার। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষার্থীদের তাদের সৃজনশীল ধারণাকে সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) জেনারেল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. মামুন হাবিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক রফিউদ্দিন আহমেদ। তাঁরা টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

কোর কমিটির পক্ষে একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসার্চের ডিন অধ্যাপক এ কিউ এম শফিউল আজম সফলভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। অন্যদিকে অ্যাডভাইজরি কমিটির পক্ষে সহ-উপাচার্য ড. এম নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং টেকসই উন্নয়নের ধারণা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করতে অবদান রাখার জন্য বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ বিচারক, বিশেষ অতিথি, মেন্টর এবং আয়োজক কমিটির সদস্যদের সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম AmarDoctor’। প্রথম রানারআপ হয়েছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম Green Genesis’, আর দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে ফার্মেসি বিভাগের ‘টিম Pharmagoal’।

এ ছাড়া বিশেষ ক্যাটাগরিতে বেস্ট ইনোভেটিভ আইডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘টিম EcoPulp BD’ এবং বেস্ট সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট আইডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ‘টিম CareCatalyst’।

সমাপনী বক্তব্যে ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের ডিন এবং প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক অধ্যাপক সেলিম আহমেদ প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিচারক, মেন্টর, অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তরের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশন–২০২৬’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তা এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও দক্ষ উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স