ঢাকা

মুর্শিদাবাদে স্কুলবাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহতদের মধ্যে তিন স্কুলশিক্ষার্থী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় তিন স্কুলশিক্ষার্থীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার সকালে আজিমগঞ্জ-কাটোয়া রেলশাখায় একটি স্কুলবাসকে দ্রুতগতির লোকাল ট্রেন ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল প্রায় ৬টা ৪০ মিনিট থেকে ৭টার মধ্যে কর্ণ সুবর্ণ রেলস্টেশন ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে সময় প্রায় ১০ শিক্ষার্থী নিয়ে একটি স্কুলবাস রেললাইন পার হচ্ছিল। ঠিক তখনই নিমতিতা-কাটোয়া রুটের দ্রুতগতির লোকাল ট্রেনটি এসে বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

ট্রেনের আঘাতে স্কুলবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিক্ষার্থীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তি

দুর্ঘটনায় আহত অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে বহরমপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

রেলগেট খোলা থাকায় দুর্ঘটনার অভিযোগ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ট্রেন আসার সময় রেলগেট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সেটি খোলা ছিল। খোলা গেট দেখে স্কুলবাসের চালক রেললাইন অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল ট্রেনটি দ্রুতগতিতে এসে বাসটিকে ধাক্কা দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষও পৃথক তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দ্বিতীয় ট্রেনের আগে গেট বন্ধ করা হয়নি

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে একই রেলপথ দিয়ে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস অতিক্রম করে। ওই ট্রেন চলে যাওয়ার পর দায়িত্বে থাকা গেটম্যান রেলগেট খুলে দেন।

কিন্তু তার পরপরই বিপরীত দিক থেকে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল ট্রেনটি আসতে থাকলেও তিনি আর গেট বন্ধ করেননি। ফলে রেলগেট খোলা অবস্থায় স্কুলবাসটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের সামনে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের এই অবহেলাই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

গেটম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী গেটম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং অসতর্কতার কারণে সময়মতো রেলগেট বন্ধ করেননি।

যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো রেল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উদ্ধার অভিযান

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত শুরু

রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে। রেলগেট পরিচালনায় কোনো ধরনের গাফিলতি, মানবিক ভুল কিংবা নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে একসঙ্গে তিন শিক্ষার্থীসহ চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স