জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি রাখা হয়নি। এমনকি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও প্রদর্শনীতে উল্লেখ করা হয়নি।
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শনিবার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, প্রদর্শনীতে মূলত বিভিন্ন সময়ের কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরশাসনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সে কারণে জিয়াউর রহমানকে প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।
তবে জামায়াত আমিরের এই ব্যাখ্যার পরও প্রশ্ন উঠেছে—প্রদর্শনীটি যদি কেবল স্বৈরশাসনের ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ হয়ে থাকে, তাহলে এতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি কেন রয়েছে এবং কেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বিভিন্ন সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারীদের ছবি স্থান পেয়েছে? একইভাবে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা কেন একেবারেই অনুপস্থিত—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
প্রদর্শনীতে ইতিহাসের ছয় পর্ব
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী এ স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ৫ আগস্ট শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি শনিবার শেষ হয়।
শনিবার বিকেলে প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন সময় ও ঘটনাকে ছয়টি পর্বে ভাগ করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রথম অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত সময়কে এ অংশে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরের অংশের শিরোনাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’। এ অংশের শুরুতেই রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংলাদেশিদের ওপর হামলা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিজয়ের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
তৃতীয় অংশের নাম ‘একনায়কতন্ত্র’। এখানে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলকে জামায়াত ‘স্বৈরশাসন’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এ অংশে শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে ফেরার ছবি, তাঁর পারিবারিক ভোজ, ১৯৭২ সালে ভারতীয় বাহিনীর বিদায়ী প্যারেডে তাঁর অংশগ্রহণ, ১৯৭৪ সালের রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডব ও দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হওয়ার খবর স্থান পেয়েছে।
একই অংশে ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিপাহি বিপ্লব সফল হওয়ার একটি চিত্রও রাখা হয়েছে। তবে সেখানে জিয়াউর রহমানের আলাদা কোনো ছবি বা তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ রাখা হয়নি।
চতুর্থ অংশের শিরোনাম ‘সামরিক স্বৈরশাসন’। এখানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলকে স্বৈরশাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়া এবং জামায়াতের বর্তমান নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের তথ্য ও ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে।
পঞ্চম অংশের নাম ‘ফ্যাসিবাদ’। এতে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।
সবশেষে রয়েছে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’ শিরোনামের অংশ। সেখানে আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের ছবি রয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রনেতা ও সমন্বয়কদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদসহ কয়েকজনের ছবি রাখা হয়েছে।
এ অংশে আন্দোলনের সময় জামায়াত–শিবির নিষিদ্ধের খবর, আহত ও গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ছবি এবং জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের স্থিরচিত্রও স্থান পেয়েছে।
জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের একাধিক ছবি থাকলেও জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি না থাকায় কয়েক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের অংশে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকা এবং ১৯৭৫ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ আসার পরও তাঁর কোনো ছবি না থাকায় প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গও প্রদর্শনীতে অনুপস্থিত। এ বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রদর্শনী পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা কেন নেই। তাঁর ব্যাখ্যা, জিয়াউর রহমান স্বৈরশাসক বা কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন না বলেই তাঁকে ওই প্রদর্শনীতে আনা হয়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা কর্তৃত্ববাদী, আগ্রাসী ও জুলুমবাজ ছিলেন, প্রদর্শনীতে মূলত তাঁদের তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, এ কারণেই আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের মতো শাসকদের সেখানে স্থান দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরাই ছিল প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য। ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
‘খালেদা জিয়ার অবদানও তুলে ধরা হয়েছে’
প্রদর্শনীতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি ও রাজনৈতিক ভূমিকার উল্লেখ থাকার বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেছেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিও তাঁদের ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, সেসব অবদানের প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সফলতা তুলে ধরাই এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য নয়। বরং বিভিন্ন সময়ের স্বৈরাচারী শাসন, জনগণের ওপর নিপীড়ন এবং সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধকে সামনে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ, শহীদ এবং শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা তুলে ধরাই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।
মুজিবের ক্ষেত্রে দুই ধরনের ভূমিকা
তবে জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যার পরও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জায়গা থেকে প্রশ্ন উঠছে, প্রদর্শনীটি যদি কেবল স্বৈরশাসকদের চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ হয়ে থাকে, তাহলে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে কেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের ঘটনাই উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর এক জায়গায় ৭ মার্চের ভাষণের ছবি দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার পরবর্তী অংশে তাঁর শাসনামলকে ‘একনায়কতন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমানকে একই প্রদর্শনীতে একদিকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, অন্যদিকে তাঁর শাসনামলের সমালোচনাও তুলে ধরা হয়েছে।
এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে, একইভাবে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার বিভিন্ন দিকও কি প্রদর্শনীতে তুলে ধরা যেত না?
বিশেষ করে প্রদর্শনীতে খালেদা জিয়ার ছবি থাকা, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা ও সমন্বয়কদের ছবি থাকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সময়ের ব্যক্তিদের ভূমিকা উপস্থাপনের পরও জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি না থাকা বিষয়টিকে আরও আলোচনার মধ্যে এনেছে।
বিএনপির রিজভীর প্রশ্ন
এদিকে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জামায়াতের এই প্রদর্শনী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ছবি এবং জুলাই আন্দোলনের স্থিরচিত্র রয়েছে। কিন্তু সেখানে জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, কথা বা পোস্টার রাখা হয়নি।
রিজভীর বক্তব্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাসে যে আলোচনা রয়েছে, সেই বিষয়টি প্রদর্শনীতে অনুপস্থিত থাকা রহস্যজনক।
ইতিহাস উপস্থাপনের ধরন নিয়েই মূল বিতর্ক
প্রদর্শনীকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন শুধু জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নয়; বরং রাজনৈতিক ইতিহাস কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জামায়াত বলছে, তারা বিভিন্ন সময়ের কর্তৃত্ববাদী শাসন, জনগণের নিপীড়ন এবং গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাঁদের স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের নিয়েই প্রদর্শনীর একটি বড় অংশ সাজানো হয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, একটি রাজনৈতিক ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনীতে কোনো ব্যক্তির শাসনামলের মূল্যায়ন এবং তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা—এই দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। কারণ, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে স্বৈরশাসক হিসেবে মূল্যায়ন করা হলেও স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্রগঠন বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
এই জায়গাতেই জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গটি সামনে এসেছে। কারণ, প্রদর্শনীতে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি ঘটনা হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের উল্লেখ থাকলেও তাঁর কোনো ছবি নেই। একইভাবে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টিও সেখানে নেই।
রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় এবং জনগণের আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা। কিন্তু প্রদর্শনী শেষ হওয়ার দিনেই এটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একদিকে জামায়াতের দাবি, তারা ইতিহাসকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছে এবং কর্তৃত্ববাদ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের অবস্থানকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দলটি যাঁকে মনে করে, সেই জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা বক্তব্য প্রদর্শনীতে না থাকার কারণ কী।
ফলে প্রদর্শনীতে কার ছবি রয়েছে বা কার ছবি নেই—এই প্রশ্নের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিই এখন বিতর্কের বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যায় জিয়াউর রহমানকে প্রদর্শনীতে না রাখার কারণ হিসেবে তাঁর ‘অটোক্র্যাট শাসক’ না হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। কিন্তু প্রদর্শনীতে স্বৈরশাসক হিসেবে চিহ্নিত না হওয়া ব্যক্তিদেরও ছবি ও ভূমিকা থাকার কারণে সেই ব্যাখ্যা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
ফলে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী শেষ হলেও এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫-পরবর্তী রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ইতিহাস কীভাবে উপস্থাপন করা হবে—সে বিতর্ক আপাতত শেষ হচ্ছে না।