ঢাকা

অলি আহমদের প্রার্থিতায় ১১ দলীয় ঐক্য, সংগ্রহ করা হলো মনোনয়নপত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ১১-দলীয় জোট। সোমবার সকালে জোটটির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচনী কর্তার কার্যালয় থেকে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অলি আহমদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হতে পারতেন। তাঁর মতে, একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তির রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘যদি সংস্কার হতো, অলি আহমদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনা সমুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ‘দ্বিচারিতা’ অথবা সংস্কারের বিষয়ে দলটির ইতিবাচক মানসিকতার অভাবের কারণে অলি আহমাদের মতো একজন দক্ষ ব্যক্তির সেবা থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

‘জয়–পরাজয় বিষয় নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সামনে আনছি’

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ১১-দলীয় জোট কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তাঁদের কাছে মূল বিষয় জয়-পরাজয় নয়; বরং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আসা।

তিনি বলেন, ‘এখানে জয়–পরাজয়টি বিষয় না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি।’

সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সর্বস্তরের প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি হওয়ায় এই পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

হামিদুর রহমান বলেন, ‘এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদাসম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ।’

তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই একজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যান, তাহলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি বলেন, ‘এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রচর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

বিএনপির ‘দ্বিচারিতা’ জনগণের সামনে আনতে চান

রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।

হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে বিএনপি ‘দ্বিচারিতা’ করেছে। এই বিষয়টি তাঁরা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা করেছে, সেটা জাতির সামনে আনতে চাই।’

গণভোটের রায়কে জনগণের রায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি।

তাঁর ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের বিষয়টিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতো।

সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এর ফলে সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাঁদের ভোটাধিকার দিয়ে তাঁর অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন।’

তাঁর মতে, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

হামিদুর রহমান বলেন, তাঁদের জোট সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা ও ভোটাধিকারকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি। সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

জামায়াত নেতা দাবি করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আরও কার্যকর প্রতিফলন ঘটত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে এটিকে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

হামিদুর রহমান আযাদের ভাষায়, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলনটা ঘটত।’

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে ১১-দলীয় জোট একদিকে অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে সামনে আনছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাখার রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চাইছে।

অলি আহমদকে ঘিরে জোটের অবস্থান

এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় একজন নেতা। তাঁর পক্ষে ১১-দলীয় জোটের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের অবস্থানও স্পষ্ট হলো।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে জয়লাভই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য নয়। বরং রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখা এবং জনগণের সামনে রাজনৈতিক বিকল্প উপস্থাপন করাই তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে বিএনপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার যে অভিযোগ হামিদুর রহমান আযাদ তুলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রক্রিয়া শুরু হলো। পরবর্তী সময়ে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ শেষে নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তা স্পষ্ট হবে।অলি আহমদের প্রার্থিতায় ১১ দলীয় ঐক্য, সংগ্রহ করা হলো মনোনয়নপত্র

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স