ঢাকা

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিয়ে বিশেষ অধিবেশন চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট, এর প্রভাবে জনজীবনে সৃষ্ট দুর্ভোগ এবং সার্বিক আর্থসামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

এ দাবিতে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। আজ শুক্রবার পাঠানো ওই চিঠিতে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে অর্থবহ আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে।

তীব্র বিদ্যুৎসংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া চিঠিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎসংকট দেখা দিয়েছে। লাগামহীন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সেবাতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহের এই সংকট শুধু জনজীবনের দুর্ভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বিদ্যুৎসংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেছেন।

তাঁর মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়ে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎসংকট দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে তিনি চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জ্বালানিসংকটের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে

বিদ্যুৎসংকটের পাশাপাশি জ্বালানিসংকটের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হলে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটের সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের চাপ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে বলেও বিরোধীদলীয় নেতা মনে করছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ

চিঠিতে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। শফিকুর রহমানের দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি উদ্ভূত সংকটগুলো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘সংকটকালে নীরব থাকতে পারি না’

রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া চিঠিতে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁরা নীরব থাকতে পারেন না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় সংসদে অর্থবহ আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।

তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রা ও দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চলমান সংকটের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়গুলোকে জাতীয় সংসদের আলোচনায় আনা প্রয়োজন। সংসদে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোচনা হতে পারে বলে তাঁর দাবির মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে।

বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি

চিঠির শেষাংশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন অবিলম্বে আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি মনে করেন, বিশেষ অধিবেশন ডেকে বর্তমান সংকটের কারণ, এর প্রভাব এবং তা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নির্ধারণেও সংসদীয় আলোচনা ভূমিকা রাখতে পারে।

আজ শুক্রবার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে জরুরি আলোচনা চাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স