ঢাকা

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় সুনামিও আঘাত হানে। আতঙ্কে বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় সরে যান।

এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিহত দুজনের একজন পুরুষ, একজন নারী

রাজধানী জাকার্তায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের একজন পুরুষ এবং অন্যজন নারী।

তিনি বলেন, আরও তথ্য যাচাই ও নিশ্চিত হওয়ার পর হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় এর কম্পন ব্যাপক এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্লোরেস দ্বীপে সুনামি

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ।

সতর্কতার পর উপকূলের বহু মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় চলে যান। ভূমিকম্পের পর সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর পরে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের পরিচালক উইজায়ান্তো জাকার্তায় সাংবাদিকদের বলেন, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

এর অর্থ, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকলেও কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভবন ধসে পড়ার ভিডিও

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারণ করা বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে ভূমিকম্পের সময় মানুষের আতঙ্ক এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়।

রয়টার্স ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরের একটি বন্দরে ধারণ করা একটি ভিডিওর অবস্থান যাচাই করে নিশ্চিত করেছে। ভিডিওতে একটি ভবনের অংশ ধসে পড়তে দেখা যায়। এ সময় আশপাশের মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে যেতে দেখা যায়।

ভূমিকম্পের সময় স্থাপনা কেঁপে ওঠায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে খোলা জায়গায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল থেকে রোগী সরিয়ে নেওয়া

ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় কমপাস টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি ভিডিওতে ইস্ট নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বাইরে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় রোগীদের খোলা জায়গায় নেওয়া হয়। চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীরাও রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজে অংশ নেন।

ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল, বন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

পরাঘাতে বাড়ছে উদ্বেগ

মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক অব্যাহত রয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পরাঘাত সাধারণ ঘটনা হলেও এগুলোর কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ভবন ও স্থাপনা নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কর্তৃপক্ষ তাই ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রবেশের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি

ভূমিকম্পের পর জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো বিভিন্ন এলাকায় কাজ শুরু করেছে। তবে ভূমিকম্পটি পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে সময় লাগছে।

কর্তৃপক্ষ হতাহতের সংখ্যা, ধসে পড়া ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করছে। যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

এদিকে ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে পরাঘাতের কারণে নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা-ও নজরে রাখা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স