ঢাকা

নারী গবেষকদের জন্য বিট্রিচ টিনসলে গবেষণা বৃত্তি, যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম জেনে নিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিজ্ঞান ও গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম করতে নারী গবেষকদের জন্য বিশেষ গবেষণা বৃত্তির সুযোগ দিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (সিএএসএসএ) উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘বিয়াট্রিস টিনসলে পোস্টব্যাক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ’।

বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত হতে চান—এমন উদীয়মান নারী গবেষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি এই ফেলোশিপকে বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইইউবির ফান্ডেড স্পনসর্ড রিসার্চ গ্রান্টের আওতায় এ কর্মসূচিতে দুটি পূর্ণকালীন গবেষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিত গবেষকেরা এক বছর গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার পাশাপাশি মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে তাঁদের মৌলিক গবেষণা পরিচালনা, গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তির জন্য নিজেদের একাডেমিক প্রোফাইল শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন

‘বিয়াট্রিস টিনসলে পোস্টব্যাক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ’ মূলত এমন নারী গবেষকদের জন্য, যাঁরা ইতিমধ্যে স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং ভবিষ্যতে উচ্চতর গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের পরিকল্পনা করছেন।

অর্থাৎ যাঁরা মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে চান, তাঁদের জন্য এই ফেলোশিপ বিশেষভাবে উপযোগী। বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ, মেধা এবং ভবিষ্যতে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগ্রহকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ফেলোশিপটি শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা প্রোফাইল তৈরির সুযোগও এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

দুটি পূর্ণকালীন গবেষক পদ

আইইউবির ফান্ডেড স্পনসর্ড রিসার্চ গ্রান্টের আওতায় এ কর্মসূচিতে দুটি পূর্ণকালীন গবেষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচিতরা ২০২৬-২৭ মেয়াদে এক বছর পূর্ণকালীন গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন।

এক বছর ধরে তাঁরা টিনসলে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করবেন। এ সময়ে প্রতিটি গবেষককে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

ফলে একজন গবেষক পুরো এক বছরে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং নিজেদের একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

গবেষণাপত্র প্রকাশে বিশেষ গুরুত্ব

ফেলোশিপের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নির্বাচিত গবেষকদের মৌলিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা। এক বছরব্যাপী কার্যক্রমে গবেষকেরা একটি মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করবেন।

নিজস্ব গবেষণার ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র প্রকাশ করাকে এ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণাপত্রে প্রথম গবেষক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের প্রোফাইলকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

মাস্টার্স বা পিএইচডির জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই বিবেচনায় এই ফেলোশিপকে ভবিষ্যৎ গবেষণাজীবনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি

ফেলোশিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট স্কুলে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা। গবেষণার পাশাপাশি নির্বাচিতরা এমন একটি একাডেমিক প্রোফাইল তৈরির সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে আবেদনের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে।

এক বছর গবেষণায় সরাসরি যুক্ত থাকার ফলে আবেদনকারীরা গবেষণার পদ্ধতি, একাডেমিক লেখালেখি এবং গবেষণাপত্র প্রস্তুতের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে নিজেদের গবেষণার আগ্রহ ও দক্ষতার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারবেন।

বিজ্ঞান গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নারীদের এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি গবেষণার বাস্তব সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আইইউবির সিএএসএসএর এই ফেলোশিপ সেই লক্ষ্যেই একটি বিশেষ উদ্যোগ। স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করার পর যেসব নারী গবেষণায় নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের জন্য এক বছর সরাসরি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি করবে এ কর্মসূচি।

বিশেষ করে যাঁরা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান, তাঁদের জন্য গবেষণা অভিজ্ঞতা, গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং একাডেমিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

আবেদন করবেন যেভাবে

ফেলোশিপে আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অফিসিয়াল আবেদন ফরম সিএএসএসএর নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন ফরমের জন্য আগ্রহীরা cassa.bd/tra ওয়েবসাইটে যেতে পারবেন।

এ ছাড়া আবেদন প্রক্রিয়া বা ফেলোশিপ-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জানার প্রয়োজন হলে সরাসরি kasad@iub.edu.bd ঠিকানায় ই-মেইল করে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ গবেষণাজীবনের প্রস্তুতি

স্নাতক ডিগ্রি শেষ করার পর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় যেতে চাইলেও পর্যাপ্ত গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনা না থাকায় প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়েন। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাভিত্তিক ফেলোশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আইইউবির বিয়াট্রিস টিনসলে পোস্টব্যাক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে একদিকে যেমন মাসিক আর্থিক সহায়তা থাকছে, অন্যদিকে গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগও রয়েছে। ফলে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার পরিকল্পনা রয়েছে—এমন নারী গবেষকদের জন্য এটি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হতে পারে।

ফেলোশিপের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

ফেলোশিপের নাম: বিয়াট্রিস টিনসলে পোস্টব্যাক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ
প্রতিষ্ঠান: ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)
আয়োজক: সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (সিএএসএসএ)
আবেদনকারীর ধরন: নারী গবেষক
পদসংখ্যা: ২টি পূর্ণকালীন গবেষক পদ
যোগ্যতা: স্নাতক/ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন
মেয়াদ: ১ বছর
মাসিক ভাতা: ৩০ হাজার টাকা
এক বছরে ভাতা: ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা
মূল কাজ: মৌলিক গবেষণা পরিচালনা ও গবেষণাপত্র প্রকাশ
বিশেষ লক্ষ্য: প্রথম গবেষক হিসেবে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার জন্য শক্তিশালী প্রোফাইল তৈরি
আবেদন: অনলাইনে
বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন: cassa.bd/tra
যোগাযোগ: kasad@iub.edu.bd

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স