ChatGPT said:
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনায় অংশ নেননি বিরোধী দলের সদস্যরা। বিলটি সংসদে পাস হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াতেই তারা আর অংশ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজেদের অবস্থান জানিয়ে কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন তাঁরা।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর বিলটি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
রোববার সকালে সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল সম্পত্তি হস্তান্তর বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল। প্রথম বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধী সদস্যরা অংশ নিলেও মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রসঙ্গ এলে তাঁরা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।
বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।
কমিটিতে বিরোধী দলের তিন সদস্য
আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিন সংসদ সদস্য—নাজিবুর রহমান, আল ফারুক আব্দুল লতিফ ও আখতার হোসেন।
তাঁরা যৌথভাবে কমিটির কাছে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছেও ওই বক্তব্যের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
বিল নিয়ে কেন আপত্তি
লিখিত বক্তব্যে বিরোধী সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ভুক্তভোগী, বিভিন্ন অংশীজন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনের মতামত যথাযথভাবে না নিয়েই সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করেছে।
তাঁদের দাবি, অধ্যাদেশ বাতিলের সময় আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সংসদে এখন যে বিল আনা হয়েছে, সেটি আগের ব্যবস্থার তুলনায় আরও সীমিত ও দুর্বল।
বিরোধী সংসদ সদস্যদের মতে, প্রস্তাবিত আইনটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড, প্যারিস প্রিন্সিপলস এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও ঘোষণার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কমিটির সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন
বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবস সময় দেওয়ার বিষয়টিও আপত্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা কিংবা স্বাধীনভাবে বিলের প্রতিটি দিক যাচাই করা সম্ভব নয়। এতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর্যায়ে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
পুরো প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত
লিখিত বক্তব্যে তিন বিরোধী সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তাঁদের উত্থাপিত আপত্তিগুলোর কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের আলোচনা ও পর্যালোচনায় আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিলটি সংসদে পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত এর কোনো ধাপেই অংশগ্রহণ না করার অবস্থান নিয়েছেন তাঁরা। মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও তাঁরা আর অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।