ঢাকা

এক দিনেই ১৫ দুর্নীতি মামলায় খালাস মির্জা আব্বাসসহ সব আসামি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


সরকারি বাড়ি বিক্রিতে অনিয়ম ও দরপত্রে কারচুপির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ১৫টি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস খালাস পেয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এসব মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে মামলাগুলোর অন্যান্য আসামিদেরও খালাস দেওয়া হয়েছে।

মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে হেয় করা এবং হয়রানির জন্য মামলাগুলো করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে মির্জা আব্বাসসহ সংশ্লিষ্ট সব আসামি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

১৮ সরকারি বাড়ি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগান এলাকায় থাকা ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির সময় দরপত্রে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মির্জা আব্বাসসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৫টি মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলাগুলোর প্রতিটিতে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছিল। অন্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আবদুস সাদেক, হুমায়ুন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।

এ ছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ব্যবসায়ী আহমেদ আকবর সোবহান দুটি করে মামলায় আসামি ছিলেন। মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীর বিরুদ্ধেও পৃথক মামলায় অভিযোগ আনা হয়। রায়ে তাঁদের সবাই খালাস পেয়েছেন।

দুদকের অভিযোগ কী ছিল

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এসব মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছিল। রাজউকের মাধ্যমে এমনভাবে দরপত্রের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে পছন্দের ব্যক্তিরা বাড়িগুলো পাওয়ার সুযোগ পান। এর ফলে সরকারের প্রায় ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছিল দুদক।

অভিযোগে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়। পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া তুলনামূলক বেশি দর উপেক্ষা করে কম দরের মাধ্যমে বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করার অভিযোগও আনা হয়েছিল।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।

সাক্ষ্য গ্রহণের পর রায়

মামলাগুলোর বিচারকাজ চলার সময় আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মির্জা আব্বাসসহ সব আসামিকেই খালাস দেওয়া হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স