সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এর অংশ হিসেবে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিন দিনব্যাপী ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় বিভাগের ১৩টি জেলার বিভিন্ন কলেজের ১ হাজার ৪৭২ জন ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে নিজ নিজ জেলার পর্যায়ে সেরা হওয়া খেলোয়াড়েরা বিভাগীয় পর্যায়ে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা ও সামর্থ্য তুলে ধরছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী খেলোয়াড়েরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দময় পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের বিকাশ শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি আনন্দময়, সুস্থ ও মানবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করাও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে যদি ক্রীড়াচর্চার একটি জোয়ার সৃষ্টি করা যায়, তাহলে তার ইতিবাচক প্রভাব শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনেও এর প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মূল ভাবনার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়টি গভীরভাবে সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
নেতৃত্ব তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ক্রীড়া
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কলেজ থেকে আসা যেসব শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন।
তিনি বলেন, ক্রীড়া শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না; একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রতিযোগিতার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে। ফলে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণ
ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার কলেজগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলার পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড়েরা। এর মধ্য দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিভাগীয় পর্যায়ে যারা সাফল্য অর্জন করবেন, তাঁরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। ফলে এই আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের সামনে এগিয়ে আসার পথও তৈরি হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই প্রতিযোগিতা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুমিনুল হাসানসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কলেজ থেকে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।