ঢাকা

সাউথ এশিয়ার তরুণদের জন্য ফেলোশিপ, সাউথ এশিয়া স্পিকসের আবেদনের বিস্তারিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান লেখক, অনুবাদক, কবি ও মৌখিক ইতিহাসবিদদের জন্য অন্যতম উল্লেখযোগ্য ওয়ান-অন-ওয়ান মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম ‘সাউথ এশিয়া স্পিকস’ (South Asia Speaks)। এর ২০২৭ ক্লাসের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা অলাভজনক এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ও সম্ভাবনাময় লেখকদের তাঁদের সাহিত্যিক কাজ এগিয়ে নিতে সহায়তা করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের লেখালেখির সুযোগ তৈরি করা। এবারের ফেলোশিপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসী লেখকদেরও আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যিক প্রতিভাদের জন্য প্রোগ্রামটির পরিসর আরও আন্তর্জাতিক হয়েছে।

পাঁচটি শাখায় আবেদনের সুযোগ

সাউথ এশিয়া স্পিকস ফেলোশিপ ২০২৭-এ পাঁচটি প্রধান শাখায় আবেদন করা যাবে। এগুলো হলো—

ফিকশন
নন-ফিকশন
কবিতা
অনুবাদ
ওরাল হিস্ট্রি বা মৌখিক ইতিহাস

দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এমন উদীয়মান লেখকেরা আবেদন করতে পারবেন, যাঁরা একটি পূর্ণাঙ্গ বই বা বইয়ের প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে উপন্যাস, প্রবন্ধের সংকলন, কবিতার বই, অনুবাদগ্রন্থ কিংবা মৌখিক ইতিহাসভিত্তিক বইয়ের প্রকল্প থাকতে পারে।

তবে ইতিমধ্যে স্ব-প্রকাশিত বই ছাড়া অন্য কোনো বই প্রকাশিত হয়েছে—এমন লেখকেরা এই ফেলোশিপের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। একই সঙ্গে বর্তমানে কোনো পূর্ণকালীন একাডেমিক প্রোগ্রাম বা ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন না।

কী কী সুযোগ পাবেন নির্বাচিত ফেলোরা

সাউথ এশিয়া স্পিকসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নির্বাচিত ফেলোদের জন্য ব্যক্তিগত বা ওয়ান-অন-ওয়ান মেন্টরশিপের ব্যবস্থা। ফেলোরা তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেখকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পান।

প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত ফেলোদের জন্য থাকছে বিশ্বমানের লেখকদের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ান মেন্টরশিপ সেশন, বিশেষায়িত লেখালেখির কর্মশালা এবং মাস্টারক্লাস। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশে ছড়িয়ে থাকা লেখক ও সাহিত্যিকদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তর্জাতিক কমিউনিটি নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া লেখালেখি, অনুবাদ কিংবা প্রকাশনার কাজে সহায়তার জন্য নির্বাচিত ফেলোরা বিশেষ আর্থিক অনুদান বা বার্সারি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাউথ এশিয়া স্পিকস ১০০-এর বেশি ফেলোকে মেন্টরশিপ দিয়েছে এবং তাঁদের ১৮টি বই প্রকাশে সহায়তা করেছে। এসব বইয়ের কয়েকটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারও অর্জন করেছে।

প্রোগ্রামের সাবেক ফেলোদের সাফল্যের তালিকাও উল্লেখযোগ্য। তাঁদের কেউ কেউ ক্রিয়েটিভ আর্টিস্টস এজেন্সি (CAA) ও দ্য ওয়াইলি এজেন্সির মতো আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংস্থার প্রতিনিধিত্ব পেয়েছেন। কেউ আবার পেঙ্গুইন হাউস ও ব্লুমসবুরির মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বই প্রকাশের চুক্তি করেছেন।

এ ছাড়া সাবেক ফেলোদের মধ্যে কেউ কেউ আইওয়া রাইটার্স ওয়ার্কশপ, ম্যাকডোয়েল এবং লোগান নন-ফিকশন প্রোগ্রামের মতো মর্যাদাপূর্ণ লেখালেখির কর্মসূচিতে সম্পূর্ণ অর্থায়নে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের অনেকে ইংলিশ পেন, ক্রসওয়ার্ড বুক অ্যাওয়ার্ড ও নিউ ইন্ডিয়া ফেলোশিপসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও অর্জন করেছেন।

২০২৭ ক্লাসের মেন্টর কারা

২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য বিভিন্ন শাখায় অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত লেখক ও গবেষকদের নিয়ে মেন্টর প্যানেল গঠন করা হয়েছে।

ফিকশন শাখায় মেন্টর হিসেবে থাকছেন নিনা ম্যাককনিগলে, মহেশ রাও ও প্রয়াগ আকবর। নন-ফিকশন শাখায় মেন্টর হিসেবে থাকছেন সনাম মেহের, রোমান গৌতম ও মানসি চোকসি।

কবিতা শাখায় মেন্টর হিসেবে রয়েছেন তিশানি দোশী। অনুবাদ শাখায় মেন্টর হিসেবে থাকছেন অরুণাভা সিনহা ও শ্রীনাথ পেরুর। আর মৌখিক ইতিহাস শাখার মেন্টর হিসেবে থাকছেন আঞ্চল মালহোত্রা।

এই মেন্টরদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ ফেলোশিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। নির্বাচিত লেখকেরা তাঁদের বই বা চলমান প্রকল্প নিয়ে মেন্টরদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন

সাউথ এশিয়া স্পিকস ফেলোশিপ ২০২৭-এ আবেদনের জন্য প্রার্থীকে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হতে হবে। বিশ্বের যেকোনো দেশে বসবাসকারী যোগ্য প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারী লেখকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত লেখকরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

আবেদনকারীকে অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ বই বা বইয়ের প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে। এটি উপন্যাস, নন-ফিকশন বই, কবিতার সংকলন, অনুবাদ প্রকল্প অথবা মৌখিক ইতিহাসভিত্তিক বই হতে পারে।

তবে এরই মধ্যে স্ব-প্রকাশিত বই ছাড়া অন্য কোনো বই প্রকাশিত হয়ে থাকলে আবেদনকারী যোগ্য হবেন না। একইভাবে বর্তমানে কোনো পূর্ণকালীন একাডেমিক ডিগ্রি বা প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত ব্যক্তিরাও এই ফেলোশিপে আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না

সাউথ এশিয়া স্পিকসের এই মেন্টরশিপ প্রোগ্রামে আবেদন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা যাবে। আগ্রহী প্রার্থীদের সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তাই শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফেলোশিপের আবেদন, যোগ্যতা, বিভিন্ন শাখার বিস্তারিত নির্দেশনা এবং অন্যান্য তথ্য জানতে সাউথ এশিয়া স্পিকসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাবে।

ওয়েবসাইট: www.southasiaspeaks.org

আবেদনের বিস্তারিত নির্দেশনা ও অন্যান্য তথ্য জানতে সংস্থাটির আবেদনসংক্রান্ত ঘোষণাও দেখা যেতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স