ঢাকা

শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন উপলক্ষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (ডিআইএস) উত্তরা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি ২০২৫–২৬’। গত শনিবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অর্জন, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শাহানা খান, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব মার্কেট জুনায়েদ আহমেদ, অক্সফোর্ড একিউএ বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজা এবং পারসন এডেক্সেলের বাংলাদেশ ও নেপালের রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন লিটন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ নাজাহ্ সালাওয়াত।

দুই পর্বে গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান

শিক্ষার্থীদের বয়স ও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী এবারের গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি দুটি পর্বে আয়োজন করা হয়। এর প্রথম পর্বে ছিল ডিআইএসের রেজিস্টার্ড ক্যামব্রিজ আর্লি ইয়ার্স সেন্টার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন উদ্‌যাপন এবং আর্লি ইয়ার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন।

প্রথম পর্বে ডিআইএসের ক্যামব্রিজ আর্লি ইয়ার্স সেন্টার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্‌যাপন করা হয়। পাশাপাশি ছোট শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও অন্যান্য অর্জন তুলে ধরা হয়। এ পর্বে সনদ উন্মোচন, পুরস্কার প্রদান, গ্র্যাজুয়েশন ওয়াক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ বিভিন্ন আয়োজন ছিল।

শিশুদের শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক পর্যায়কে আনন্দময় ও কার্যকর করে তোলার গুরুত্বও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে খেলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতি, শিশুদের স্বাভাবিক কৌতূহলকে কাজে লাগানো এবং বয়স উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ক্যামব্রিজ আর্লি ইয়ার্স কারিকুলাম নিয়ে প্যানেল আলোচনা

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ক্যামব্রিজ আর্লি ইয়ার্স কারিকুলাম নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ডিআইএসের অধ্যক্ষ নাজাহ্ সালাওয়াতের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনায় অংশ নেন ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের কান্ট্রি লিড সারওয়াত রেজা এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার সৈয়দ ফাহিম ফয়সাল।

প্যানেল আলোচনায় আর্লি ইয়ার্স পর্যায়ের শিক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শিশুদের শেখার আগ্রহ তৈরি, খেলাধুলার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন এবং আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষার সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আলোচনায় বলা হয়, শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর জ্ঞান দেওয়ার পরিবর্তে তাদের সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ শিশুদের শিক্ষার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে পারে।

প্রাইমারি থেকে আপার সেকেন্ডারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রাইমারি থেকে আপার সেকেন্ডারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পর্বের আয়োজনের মধ্যে ছিল হেড বয় ও হেড গার্লের শপথ গ্রহণ, প্রিফেক্ট ব্যাজ সেরিমনি, বিভিন্ন পুরস্কার ও সনদ প্রদান, গ্র্যাজুয়েশন ওয়াক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

হেড বয় ও হেড গার্লের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রিফেক্ট ব্যাজ সেরিমনির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষ ও নেতৃত্বের আহ্বান

গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক সেশন।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক ফলাফলের মধ্যে নিজেদের সাফল্য সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, আত্মবিশ্বাস তৈরি এবং নিজেদের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রতি অটল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সনদ ও পুরস্কার প্রদান

গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক ধরনের সার্টিফিকেট, ব্যাজ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেটের পাশাপাশি প্রিফেক্ট ব্যাজ, ডিউক অব এডিনবার্গস অ্যাওয়ার্ড সার্টিফিকেট, ভলান্টিয়ার সার্টিফিকেট এবং ক্যামব্রিজ লার্নার অ্যাট্রিবিউটস ব্যাজ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া চেকপয়েন্ট, আইজিসিএসই ও আইএএল পর্যায়ে উচ্চতর সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ‘হাই অ্যাচিভার্স সার্টিফিকেট’ প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থীদের এসব অর্জন তাঁদের একাডেমিক দক্ষতার পাশাপাশি নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর আয়োজন

পুরো অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনির আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। গ্র্যাজুয়েশন ওয়াক, পুরস্কার ও সনদ বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় উদ্‌যাপন করা হয়।

প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের জন্য অনুপ্রেরণা জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে উঠে আসে।

ডিআইএস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনে প্রতিফলিত হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স