তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে বর্তমান সময়ে ভাষা শেখার উপকরণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজলভ্য। দুই-তিন দশক আগেও একটি ইংরেজি শব্দের অর্থ, বানান কিংবা সঠিক উচ্চারণ জানতে শিক্ষার্থীদের বড় অভিধানের পাতা উল্টাতে হতো। এখন একটি স্মার্টফোনেই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন ডিকশনারি, ব্যাকরণ সংশোধনের সফটওয়্যার, উচ্চারণ শেখার বিভিন্ন অ্যাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অসংখ্য ভাষা শেখার প্ল্যাটফর্ম।
কিন্তু প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতার মধ্যেও একটি বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এত বিপুল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ কেন ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে বা বাস্তব জীবনে ভাষাটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে না?
দীর্ঘ সময় ধরে ইংরেজি পড়াশোনা করার পরও অনেক শিক্ষার্থী দৈনন্দিন কথোপকথনে সাবলীলভাবে ইংরেজি বলতে সংকোচ বোধ করে। অনেকের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল থাকলেও শোনা ও বলার দক্ষতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে ইংরেজি শেখার সঙ্গে বাস্তব জীবনে ভাষাটি ব্যবহারের মধ্যে একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
দেশে ইংরেজি শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যবই ও ব্যাকরণনির্ভর না রেখে যোগাযোগের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে চালু করা হয়েছিল ‘কমিউনিকেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং’ (সিএলটি) বা যোগাযোগভিত্তিক ভাষা শিক্ষাপদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শুধু ভাষার নিয়ম শেখানোর পরিবর্তে বাস্তব পরিস্থিতিতে ইংরেজি ব্যবহার, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং চারটি মৌলিক দক্ষতা—শোনা, বলা, পড়া ও লেখার সমন্বিত চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা।
তবে কয়েক দশক পরও এই পদ্ধতির কাঙ্ক্ষিত ফল কতটা পাওয়া গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বহু শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ইংরেজি পড়েও স্বাচ্ছন্দ্যে কয়েকটি বাক্য বলতে পারে না। নির্ভুলভাবে লিখতেও অনেকে সমস্যায় পড়ে। এই পরিস্থিতির জন্য শুধু শিক্ষার্থীর অনাগ্রহ বা প্রচেষ্টার ঘাটতিকে দায়ী করলে সমস্যাটির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এর পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন কাঠামো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নীতিনির্ধারণের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার দূরত্বসহ বেশ কিছু কাঠামোগত কারণ রয়েছে।
পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়নের কাঠামোগত সমস্যা
একটি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে সাধারণত চারটি মৌলিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ—শোনা, বলা, পড়া ও লেখা। কার্যকর ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এই চারটি দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়া ও লেখার দক্ষতার ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভাষাজ্ঞান যাচাই করা হলেও লিসনিং বা শোনার দক্ষতা এবং স্পিকিং বা বলার দক্ষতার মূল্যায়ন খুব সীমিত। ফলে পরীক্ষায় যে দক্ষতার জন্য নম্বর নেই, সেটি শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কম আগ্রহ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশে ফলাফল, নম্বর ও জিপিএ এখনো শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড। এ কারণে পরীক্ষায় যে অংশের ওপর নম্বর থাকে, সেটিই শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে জায়গা করে নেয়। বিপরীতে ইংরেজিতে কথা বলা কিংবা শুনে বোঝার মতো দক্ষতা যদি পরীক্ষার অংশ না হয়, তাহলে সেগুলোর নিয়মিত চর্চা শ্রেণিকক্ষে বা বাড়িতে অগ্রাধিকার না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এখানেই যোগাযোগভিত্তিক ইংরেজি শিক্ষার সঙ্গে প্রচলিত মূল্যায়ন কাঠামোর একটি মৌলিক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। একদিকে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের জন্য ইংরেজি শেখানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই যোগাযোগ দক্ষতার বড় অংশই পরীক্ষায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
ফলে ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্য এবং পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল—দুটি অনেক সময় আলাদা পথে চলে যায়।
শ্রেণিকক্ষে উপযুক্ত পরিবেশ ও অবকাঠামোর অভাব
শুধু নতুন কোনো শিক্ষাপদ্ধতি বা তাত্ত্বিক কাঠামো চালু করলেই ভাষাগত দক্ষতা তৈরি হয় না। ভাষা শেখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং এমন একটি শ্রেণিকক্ষ, যেখানে শিক্ষার্থী ভুল করার ভয় ছাড়াই ভাষাটি ব্যবহার করতে পারে।
কমিউনিকেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শ্রেণিকক্ষকে মিথস্ক্রিয়ামূলক করে তোলা। শিক্ষার্থীরা জোড়ায় বা ছোট দলে কাজ করবে, ইংরেজিতে কথোপকথন করবে, বিভিন্ন পরিস্থিতি অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করবে এবং শিক্ষক মূলত সহায়ক বা ফ্যাসিলিটেটরের ভূমিকা পালন করবেন—এমন পরিবেশই এ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কিন্তু বাংলাদেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবতায় এমন পরিবেশ তৈরি করা কঠিন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্সল এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে একটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ জন বা তারও বেশি হতে পারে। এত বড় শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
একজন শিক্ষককে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠ পরিচালনা, তাদের ভুল সংশোধন এবং প্রত্যেককে কথা বলার সুযোগ দিতে হয়। ফলে স্পিকিং অনুশীলন অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায় না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত অডিও-ভিজ্যুয়াল সরঞ্জাম, ভাষা ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা কিংবা নিয়মিত লিসনিং অনুশীলনের সুযোগ না থাকলে যোগাযোগভিত্তিক ভাষা শিক্ষা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতিও বড় বাধা
ভাষা শিক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষতাও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন পদ্ধতি চালু করা হলেও সেই পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য শিক্ষককে যথাযথ প্রশিক্ষণ না দিলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন।
বিশেষ করে স্পিকিং ও লিসনিংভিত্তিক ইংরেজি শেখানোর জন্য শিক্ষকের নিজস্ব ভাষাগত দক্ষতা, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার কৌশল এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ব্যবহারিক ভাষা প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত। ফলে যোগাযোগভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে শিক্ষক আবার প্রচলিত ব্যাকরণ, অনুবাদ ও লিখিত অনুশীলননির্ভর পদ্ধতিতে ফিরে যেতে পারেন।
এ অবস্থায় শুধু শিক্ষকের ওপর দায় চাপানোর পরিবর্তে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সময়, উপকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
নীতিনির্ধারণ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার দূরত্ব
ইংরেজি শিক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো নীতিনির্ধারণের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার দূরত্ব। শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম কিংবা শিক্ষাপদ্ধতি নির্ধারণের সময় বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠে যাঁরা প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
একজন শিক্ষক প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারেন—কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা বেশি আগ্রহী হচ্ছে, কোথায় তারা কথা বলতে সংকোচ করছে, কোন ধরনের কার্যক্রম বাস্তবে কাজ করছে এবং কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে।
কিন্তু নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে এসব অভিজ্ঞতা সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হলে নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফাঁক তৈরি হতে পারে।
একই পদ্ধতি দেশের সব অঞ্চলে একইভাবে কার্যকর হবে—এমন ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়। শহরের একটি স্কুলে যে ধরনের প্রযুক্তি বা শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠানে তা একইভাবে প্রয়োগ করা নাও যেতে পারে।
তাই নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় বাস্তবতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ইংরেজিভীতি কাটাতে কী করা যেতে পারে
শিক্ষার্থীদের ইংরেজিভীতি কমাতে হলে ইংরেজিকে শুধু পরীক্ষার বিষয় হিসেবে না দেখে যোগাযোগের ভাষা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর জন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
পরীক্ষায় লিসনিং ও স্পিকিং যুক্ত করা
প্রথমত, মূল্যায়ন ব্যবস্থায় লিসনিং ও স্পিকিং দক্ষতার যথাযথ স্থান তৈরি করা যেতে পারে। বোর্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় শোনা ও বলার দক্ষতার জন্য নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ করা হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই এ দুটি দক্ষতার চর্চায় বেশি গুরুত্ব দেবেন।
শুধু লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফলের ভিত্তিতে ভাষাদক্ষতা নির্ধারণ না করে শিক্ষার্থী বাস্তব পরিস্থিতিতে কতটা শুনে বুঝতে এবং নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারছে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার করা
দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত আধুনিক ভাষা শিক্ষা ও যোগাযোগভিত্তিক পাঠদান পদ্ধতির প্রশিক্ষণ চালু করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ শুধু তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে শ্রেণিকক্ষে কীভাবে স্পিকিং ও লিসনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, তার ব্যবহারিক অনুশীলন থাকতে হবে।
ভাষাচর্চার পরিবেশ তৈরি
তৃতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভুল করার ভয় ছাড়াই ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। ভাষা শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ভুল হতে পারে। শিক্ষার্থীর ভুলকে উপহাসের কারণ না বানিয়ে সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখাতে হবে।
স্কুলগুলোতে নিয়মিত ইংরেজি কথোপকথন, বিতর্ক, উপস্থাপনা, দলগত কার্যক্রম, গল্প বলা ও পরিস্থিতিনির্ভর ভাষাচর্চার আয়োজন করা যেতে পারে।
প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার
চতুর্থত, প্রযুক্তিকে শুধু অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে না দেখে ভাষা শিক্ষার নিয়মিত অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ডিকশনারি, অডিও-ভিডিও কনটেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভাষা শেখার টুল এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শিক্ষকের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। কোন প্ল্যাটফর্ম কীভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হবে—সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা প্রয়োজন।
‘ডাউন-টু-আপ’ নীতিনির্ধারণের প্রয়োজন
ইংরেজি শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি নিশ্চিত করতে হলে শুধু ওপর থেকে নির্দেশনা দেওয়ার পরিবর্তে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকেও নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইংরেজি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন করা যেতে পারে। কোন নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন—এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের দূরত্ব কমানো সম্ভব।
প্রযুক্তির যুগে ইংরেজি শেখার উপকরণের সংকট নেই। বরং একজন শিক্ষার্থীর হাতের স্মার্টফোনেই এখন এমন অনেক উপকরণ রয়েছে, যা কয়েক দশক আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল। কিন্তু উপকরণ সহজলভ্য হওয়া আর সেই উপকরণ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারা এক বিষয় নয়।
শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষ করে তুলতে হলে পরীক্ষার কাঠামো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নীতিনির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রযুক্তি তখনই সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে, যখন শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়মিত শেখা, অনুশীলন ও বাস্তব যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে।
ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে তাই শুধু আরও অ্যাপ, আরও সফটওয়্যার বা আরও ডিজিটাল কনটেন্ট যোগ করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থী ইংরেজি শুনবে, বলবে, পড়বে এবং লিখবে—এবং এই চারটি দক্ষতাই তার শিক্ষাজীবনে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে।
লেখা: অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়