জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচি থেকে সরকারকে সমালোচনা করে দলটির নেতারা বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার রাতে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে রাজধানীর বাংলামোটরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি পরীবাগ এলাকায় ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্য’-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আবারও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা নেই’
বাংলামোটর মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সরকার এরই মধ্যে কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট রয়েছে—এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তাঁর দাবি, ওই সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতার ঘাটতি ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি সরকার এরই মধ্যে দেশের মানুষের কাছে ব্যর্থ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে লংমার্চের মাধ্যমে এক দফা দাবির কথা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে বিরোধী দল বা ১১ দলীয় জোট তাদের বিরুদ্ধে কী করতে পারে, তাহলে সেটি ভুল ধারণা। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত জনগণই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘জনগণের পেটে লাথি’ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সরকারের প্রয়োজন নেই: নাসীরুদ্দীন
সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান সরকারের আর প্রয়োজন নেই বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিছিলে এনসিপির নেতাকর্মীরা
বাংলামোটরের সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এতে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, যুব সংগঠন যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল এবং শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব ঋজু মোর্শেদসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
মিছিলটি বাংলামোটর থেকে পরীবাগের দিকে অগ্রসর হয়। পরে পরীবাগ এলাকায় ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্য’-এর সামনে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
‘ক্ষমতায় থাকার অধিকার হারিয়েছে’
মিছিল শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার। তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁদের কাছে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ইসহাক সরকারের অভিযোগ, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ কারণে তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
তিনি বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
‘আগামীতে প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ’
সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন ইসহাক সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি।
ইসহাক সরকার বলেন, এনসিপি এবার মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে। তবে ভবিষ্যতে শুধু প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারকে প্রতিরোধের কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করে সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
এনসিপির নেতারা সমাবেশ থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির পরিবর্তনের দাবিও তুলে ধরেন।