ঢাকা

গাজী নজরুলের বিষয়ে স্পিকারের চিঠি এখনো না পাওয়ার কথা জানাল ইসি সচিব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ সচিবালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চিঠি ইসিতে আসেনি বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের বিষয়টি ইসিকে জানিয়েছে। তবে দলটির দেওয়া ওই চিঠির ভিত্তিতে ইসির নিজ উদ্যোগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

স্পিকারের চিঠির অপেক্ষায় ইসি

গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী বেশ কিছুদিন আগে দলীয় প্যাডে ইসিকে চিঠি দিয়ে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়েছে। কিন্তু সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হবে কি না, সে বিষয়ে ইসির সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।

ইসি সচিব বলেন, এ ধরনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে কমিশনকে জানানোর বিধান রয়েছে। স্পিকার বা সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

অর্থাৎ, জামায়াতের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের তথ্য ইসির কাছে পৌঁছালেও সেটিকে সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিষয়ে কমিশনের জন্য সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। বর্তমানে গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেই রয়েছেন।

জুলাইয়ে দল থেকে বহিষ্কার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরদিন দলটির পক্ষ থেকে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

জামায়াতের চিঠিতে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে তাঁর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে বহিষ্কারের পরও তাঁর সদস্যপদ নিয়ে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে যা বলা আছে

গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে মূল প্রশ্নটি এসেছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে ঘিরে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে।

তবে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল তাঁকে বহিষ্কার করলে তাঁর সংসদ সদস্যপদের কী হবে—এ বিষয়ে ৭০ অনুচ্ছেদে সরাসরি কোনো বিধান নেই। ফলে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে দলীয় বহিষ্কার এবং সংসদ সদস্যপদ—দুটি বিষয় কীভাবে সাংবিধানিকভাবে বিবেচিত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

৬৬ অনুচ্ছেদে ইসির ভূমিকা

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ও সদস্য হিসেবে থাকার যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে অযোগ্য হয়েছেন কি না কিংবা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর আসন শূন্য হবে কি না—এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে শুনানি করে প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা ইসির রয়েছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি কমিশনের কাছে পাঠানো প্রয়োজন।

সংসদীয় কমিটি নিয়েও বিতর্ক

দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্যও জামায়াতে ইসলামী সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তবে ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি-সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়। পরে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তির পর তাঁর নাম বাদ দিয়ে কমিটিটি পুনর্গঠন করা হয়।

এ নিয়ে ওই দিন সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে রাজনৈতিক দল বহিষ্কার করলেই সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সদস্যপদ শূন্য হয়ে যায় না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ না করলে ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান প্রযোজ্য হয় না।

সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সংসদীয় প্রক্রিয়ার ওপর

গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ইসির অবস্থান হলো—জামায়াতের বহিষ্কারের চিঠি কমিশন পেয়েছে, কিন্তু সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংসদীয় চিঠি এখনো আসেনি। ফলে স্পিকার বা সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ইসির কাছে পাঠানো না পর্যন্ত কমিশন নিজ উদ্যোগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

স্পিকারের পক্ষ থেকে চিঠি এলে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সদস্যপদ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য এখন সংসদীয় প্রক্রিয়ার দিকেই নজর রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স