ঢাকা

ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবর্তন চান ইনফান্তিনো, স্বাধীন পর্যালোচনার প্রস্তাব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


ফিফার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ বিষয়ে তিনি একটি স্বাধীন বহিরাগত পর্যালোচনা কমিশন গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে ফিফা কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করতে চান।

ফিফা কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিদের পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো জানান, সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উদ্যোগগুলো কীভাবে পরিচালিত হয়, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ দেওয়ার জন্য স্বাধীন একটি কমিশন গঠনের বিষয়টি তিনি কাউন্সিলের সামনে তুলবেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মহাদেশীয় কনফেডারেশন, সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করতে চান তিনি।

ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও আলোচনা

প্রস্তাবিত পর্যালোচনায় বিশ্ব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ফিফার সভাপতি, ব্যুরো, কাউন্সিল ও কংগ্রেসের দায়িত্ব ও ক্ষমতা কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

ইনফান্তিনোর উদ্যোগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে কোন কাঠামো গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি।

বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি ফিফার একটি বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। পরিকল্পনাটিতে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।

উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে। এমনকি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বয়কটের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এর পর গত জুলাইয়ে প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়।

পরবর্তীতে আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ফিফার নেতৃত্বের কাঠামো পরিবর্তনের দাবিও সামনে আসে।

ইনফান্তিনোর ব্যাখ্যা

বাতিল হওয়া পরিকল্পনা সম্পর্কে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফা-নিয়ন্ত্রিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সীমিত অংশ বিক্রি করে ফুটবল উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, মূলত সেটিই যাচাই করা হচ্ছিল। ফুটবলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফিফার নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না বলে তিনি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের আগেই প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে চলে আসে। ফলে অনেকের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয় যে সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

ইনফান্তিনো স্পষ্ট করেছেন, সেটি ছিল কেবল একটি প্রস্তাব; কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সম্মতির ওপরই বিষয়টি নির্ভর করত। বর্তমানে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং এটি নিয়ে আর এগোনোর পরিকল্পনা নেই।

ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন

আগামী মার্চে মরক্কোর রাবাতে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইনফান্তিনোর বিরোধীরা তাঁর বিপরীতে শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনও একমত হতে পারেনি বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফিফার নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি সভাপতির হাতে থাকা ক্ষমতার পরিধি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

ইনফান্তিনো অবশ্য জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একাধিক ধরনের কাঠামো নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ ফিফা ব্যুরোর সর্বসম্মত অনুমোদনের পক্ষে, আবার কেউ কংগ্রেস ও সদস্য দেশগুলোর হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলছেন।

তিনি বলেন, কোনো আলোচনার আগেই একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং বিভিন্ন মডেলের পক্ষে থাকা পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

অক্টোবরে প্রস্তাব জমা

আগামী ১৫ অক্টোবরের কাউন্সিল সভার আগে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর সেগুলো নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।

তবে ফিফার সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে শেষ পর্যন্ত তা কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স