ঢাকা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর করতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য স্থায়ী আসন নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্কে মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব

খলিলুর রহমানের বক্তব্যে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী আফ্রিকা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও মহাদেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ নিরাপত্তা পরিষদে তাদের কোনো স্থায়ী আসন নেই।

তাঁর মতে, আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো দয়া বা অনুকম্পার বিষয় নয়; বরং এটি ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব এবং জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

নিরাপত্তা পরিষদকে বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি এর কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান।

বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজন

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট নিয়েও কথা বলেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তাঁর মতে, আস্থা পুনরুদ্ধারে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা বাস্তবসম্মতভাবে স্বীকার করা, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা এবং সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আরও সম্পৃক্ত করা জরুরি।

উন্নয়ন সহায়তা কমছে, বাড়ছে সামরিক ব্যয়

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন খলিলুর রহমান।

তিনি জানান, এক বছরে ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে বিশ্বের সামরিক ব্যয় প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিতে উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংঘাতে আন্তর্জাতিক আইন সমভাবে প্রয়োগের আহ্বান

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বেছে বেছে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

যুদ্ধ, সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও জাতিসংঘের মাঠপর্যায়ের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি। বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কর্মকাণ্ডের উদাহরণও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও সতর্কতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসলামোফোবিয়া, বর্ণবাদ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন খলিলুর রহমান। মানবাধিকার ও মানুষের মর্যাদা রক্ষায় এসব প্রবণতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভবিষ্যতের আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তি মানব উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করলেও যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মানবসমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

পানি, বিদ্যুৎ ও সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে দ্রুত আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

একই সঙ্গে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন খলিলুর রহমান।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স