ঢাকা

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি জামায়াতের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ঢাকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থান যা-ই হোক, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ দাবি জানান। বিবৃতিতে আহত সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

হামলায় চার সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ১০

রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত সাংবাদিকেরা হলেন দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। পরে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হামলায় উদ্বেগ

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতির মধ্যেও সাংবাদিকেরা হামলার শিকার হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

দলটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার মতো তথ্য থাকার পরও তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার বা আইনের কাছে সোপর্দ না করা আরও উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মুক্ত সাংবাদিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানচর্চা ও মুক্ত মতপ্রকাশের ক্ষেত্র। সেখানে সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে অপরাধী যে-ই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ঘটনার তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা

হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘটনাটি তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে। পরে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার এবং আরও কয়েকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠনও। ফলে রাবি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী তাদের বিবৃতিতে আবারও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মুক্ত সাংবাদিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স