ঢাকা

ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, থাকছে যেসব কর্মসূচি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে এটিই তাঁর প্রথম সফর।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় ঢাকার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী ব্রিজের কাছে পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করার কথা রয়েছে।

এরপর বেলা ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা দেড়টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

দুপুর ২টার দিকে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করতে যাওয়া মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন প্রকল্পটি চলতি বছরের ১৬ জুন একনেকে অনুমোদন পায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন করা হবে। পাশাপাশি ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ, যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে

ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার কার্যক্রমও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (রিনিউয়েবল এনার্জি) মো. শাহিনুর রহমান মোল্লার ভাষ্য, সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হিসেবে ফেনীর এই কার্যক্রমটি উল্লেখযোগ্য। তাঁর দাবি, তিন উপজেলার সব কটি সিস্টেম বর্তমানে সচল রয়েছে এবং অনলাইনে প্রতিটি সাইটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।

থাকছে কার্ড ও সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠান

বিকেল ৩টার দিকে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

দিনের কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ফেনী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাত ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীতে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। মুহুরী নদীর তীরবর্তী ঘাটঘর এলাকায় কর্মসূচির মঞ্চ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। সেখানে উদ্বোধনী ফলক স্থাপন করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠানস্থলে আগতদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানির ট্যাংক, পোর্টেবল টয়লেটসহ স্যানিটেশন সুবিধা তৈরির কাজও চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশে মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং আশপাশের এলাকাতেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা তিনটি জোনে ভাগ করা হবে—রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট। নির্দিষ্ট নিরাপত্তা কার্ডধারীরা রেড ও ইয়েলো জোনে প্রবেশ করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত থাকবে হোয়াইট জোন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এসএসএফ ও পিজিআরের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ, এসআরবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী প্রধানমন্ত্রীর নানার বাড়ির এলাকা। তাঁর সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স