ঢাকা

স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির তাগিদ জাপার একাংশের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) নেতারা। একই সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত দলের প্রেসিডিয়াম সভায় এসব কথা বলেন দলটির নেতারা। সভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধ বিবেচনায় ব্যবস্থা

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা গেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা কমানোর পথ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বেকারত্ব এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট জনজীবনে চাপ তৈরি করছে।

এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপত্তা ও স্বস্তি চায় সাধারণ মানুষ

সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সাধারণ মানুষ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য শুনতে চায় না; তারা দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তিও চায়।

তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে কিনতে পারে—সরকারকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব

প্রেসিডিয়াম সভায় দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিসর তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন দলটির নেতারা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দ্রব্যমূল্যের চাপ, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে নেতারা মতামত দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা

প্রেসিডিয়াম সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান ও করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সভায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক (চুন্নু), সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান ও মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রত্না এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন, সরদার মো. শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শেখ মাতলুব হোসেন, নাজনীন সুলতানা, ইয়াহইয়া চৌধুরীসহ দলের অন্যান্য নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নেতারা বলেন, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হলে দেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পথ সুগম হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স