ঢাকা

প্রশ্নপত্র ফাঁস তদন্ত কমিটি নিয়ে অসন্তোষ, ‘চোর ধরার দায়িত্ব চোরদেরই’: হাসনাত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি বাতিলের দাবি এনসিপি সংসদ সদস্যের | চোর ও চোরের সর্দার—উভয়কে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। কমিটিকে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ আখ্যা দিয়ে তিনি এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের পৃষ্ঠপোষকদেরও শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে তদন্ত কমিটির গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ কারণে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তদন্ত কমিটি নিয়ে হাসনাতের প্রশ্ন

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে জারি করা অফিস আদেশ নিজের ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ওই পোস্টে তিনি কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘যারা চুরি করে, তাদেরকেই চোর ধরার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ যাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাকেই বানানো হয়েছে এই চোরদের সর্দার।’

পোস্টে আরও তিনি লেখেন, ‘চোর ও চোরের সর্দার—উভয়কেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এই প্রহসনের নাটকীয় ‘‘যেমন খুশি তেমন সাজো’’ কমিটি বাতিল করো।’

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে তাঁর আপত্তি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত এমনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় না থাকে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

তবে তাঁর ফেসবুক পোস্টে করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত, কিংবা তদন্ত কমিটির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে বিতর্ক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। শনিবার পদটির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। কারণ, এ ধরনের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র আগাম ফাঁস হয়ে থাকলে তা মেধাভিত্তিক নিয়োগের নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

এ কারণে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির আহ্বায়ক এবং প্রশাসন অধিশাখার উপসচিবকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির দায়িত্ব হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। তবে তদন্তের পরিধি, কমিটি কী কী তথ্য সংগ্রহ করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্তে নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাঁর দাবি, কেবল সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের নয়, এ ধরনের অনিয়মে কেউ পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতা করে থাকলে তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্তে সংশ্লিষ্ট নথি, প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচ্য।

এদিকে তদন্ত কমিটি বাতিলের দাবির বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত কীভাবে এগোয় এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি কী প্রতিবেদন দেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তাই অভিযোগের সত্যতা, দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ফল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স