ঢাকা

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে অচলাবস্থা, আন্দোলনকারীদের আটক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে যন্তর মন্তর অভিমুখে আন্দোলন; ছয় হাজারের বেশি আটক করার দাবি, আজও কর্মসূচি সিজেপির

নয়াদিল্লি: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ। গতকাল শনিবার যন্তর মন্তর অভিমুখে আন্দোলনকারীদের মিছিল আটকে দিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) মোতায়েন করা হয়। বন্ধ রাখা হয় মেট্রোর একাধিক স্টেশন, বাতিল করা হয় দূরপাল্লার ট্রেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও দিল্লির বিভিন্ন স্থান, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও অন্যান্য রাজ্যে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। আন্দোলন আয়োজক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দাবি, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু দিল্লিতেই অন্তত ছয় হাজার মানুষকে আটক করা হয়। এ ছাড়া মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরেও ধরপাকড়ের খবর পাওয়া গেছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চার রাজ্যের সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী—কেরালার পিনারাই বিজয়ন, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার মানিক সরকার ও দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ ছাড়া সিজেপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা, ছাত্রসংগঠনের নেত্রী, রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, আইনজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের আটক করা হয়।

তবে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সিজেপির প্রথম সারির নেতাদের ছাড়া আটক ব্যক্তিদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার মুক্তির খবরও পাওয়া যায়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার আন্দোলন ঠেকাতে গিয়ে রাজধানীর জনজীবন ও যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত অচল করে দিয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এবং বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড়ের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

৩৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, সাত স্তরের ব্যারিকেড

যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গতকাল প্রায় ৩৫ হাজার পুলিশ, র‍্যাফ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে তৈরি করা হয় সাত স্তরের ব্যারিকেড। নজরদারির জন্য বসানো হয় প্রায় তিন হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা।

নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন শুক্রবার রাত থেকে গতকাল দিনভর বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এসব স্টেশন দিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি দিল্লির বিভিন্ন রেলস্টেশনে যাতায়াতকারী ২৫০টি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। আন্দোলনে যোগ দিতে অন্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের দিল্লিতে পৌঁছানো ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যে দিল্লিগামী ট্রেন থেকে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা কয়েক শ যাত্রীকে নামিয়ে আটক করা হয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাজধানীর লুটিয়েন্স দিল্লি নামে পরিচিত এলাকায়—যার মধ্যে যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, নির্বাচন সদন ও সংসদ ভবন রয়েছে—গতকাল সকাল থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভের সরাসরি সম্প্রচার ও তথ্য ছড়িয়ে পড়া সীমিত করা।

এত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও বিভিন্ন পথ দিয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অনেককে আটক করে বাসে তুলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকটি স্টেডিয়ামকে আগেই আটক ব্যক্তিদের রাখার স্থান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক বহু নেতা

যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আটক হন কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর বাসস্থানের সামনে থেকে আটক করা হয়। ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও দিল্লিতে আটক হন।

যন্তর মন্তরে যেতে না পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তাঁর ভাতিজা ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি আবাসনের সামনে একটি বাসছাউনিতে অবস্থান শুরু করেন। পরে সেখান থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আটক হন সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলে ও ডেরেক ও’ব্রায়ান।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসও রয়েছেন। গতকাল সকালে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতরেই তাঁদের আটক করা হয়। এর আগে গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে আটক করা হয় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। মাত্র তিন দিন আগে জার্মানি থেকে ভারতে ফিরে তিনি আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সিজেপির লিগ্যাল সেলের নেত্রী রত্না সিংকেও আটক করে দিল্লি পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগে অভিজিৎ দিপকে জানান, তাঁর অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্ডে। এর মাধ্যমে দলটি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে।

গতকাল রাতে সিজেপির নেতাদের বক্তব্যেও একই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁদের ভাষ্য, ধরপাকড় ও বাধা সত্ত্বেও ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলন বন্ধ হবে না।

ছাত্রনেত্রী, সমাজকর্মী ও আইনজীবীরাও আটক

যন্তর মন্তরে যেতে বাধা পাওয়ার আশঙ্কায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা সমর্থকদের নিয়ে দক্ষিণ দিল্লির আইএনএ মার্কেটের কাছে দিল্লি হাটের সামনে মিছিল বের করেন। সেখান থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নেহা বোরা অভিযোগ করেন, আটকের সময় পুলিশ তাঁর মুঠোফোন নিয়ে কিছু সময় নিজেদের কাছে রেখেছিল। মুক্তির পর ফোনটি ফেরত পান বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান।

তাঁর পাশাপাশি সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন আইনজীবী মিছিল নিয়ে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে আটক হন। পরে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর হস্তক্ষেপে তাঁদের অল্প সময়ের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

দিল্লির বাইরেও বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভের সময় অভিনেতা ইমরান খানকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ ভ্যান থেকে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘মনে হচ্ছে আমি ড্রাইভে যাচ্ছি।’

আটক সবাইকে মুক্তির দাবি, অনশনের হুঁশিয়ারি ওয়াংচুকের

বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে আজ রোববারের মধ্যে মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অন্যথায় তিনি অনশন অথবা পদযাত্রার কর্মসূচি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী ওয়াংচুক গতকাল এক্সে দেওয়া এক বার্তায় লেখেন, ‘গতকাল যখন আমি আজকের বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তির জন্য আবেদন জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেছিলাম, তখন কল্পনাও করতে পারিনি, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়বে।’

তাঁর এ বক্তব্যে বিক্ষোভ দমনে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে।

আজও যন্তর মন্তরে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির

গতকাল রাতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ রোববারও যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অজিঙ্ক শিন্ডে বলেন, ‘মোদি সরকার ভয় পাচ্ছে। আমরা আবার একজোট হলে তাদের ক্ষমতার গদি টলে যেতে পারে। কিন্তু আমরা পিছু হটছি না! আগামীকাল (আজ) আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করব। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করব।’

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছে, শীর্ষ নেতাদের আটক কিংবা পুলিশের বাধা তাদের কর্মসূচি বন্ধ করতে পারবে না। অন্যদিকে, গত রাতেই সিজেপির আজকের কর্মসূচি ঠেকাতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে পুলিশ।

কর্মসূচি ঘিরে আবারও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হলে রাজধানীর জনজীবন ও যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন করে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফিরিয়ে আনার বিতর্ক

দিল্লিতে গতকালের নিরাপত্তাব্যবস্থা, গণহারে আটক এবং যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রাখার অভিযোগ ঘিরে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। সমালোচকদের মতে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় ও নাগরিক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনা সেই সময়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থায় নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা, সংবাদপত্রে সেন্সরশিপ আরোপ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের আটক করার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা টেনে আন্দোলনকারীরা সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন। তবে দুই সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট এক নয়—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

দিল্লিতে অতীতেও বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে খালিস্তান আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা এবং ১৯৮৮ সালে কৃষক বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে রাজধানী। কৃষকনেতা মহেন্দ্র সিং টিকায়েতের নেতৃত্বে কৃষকেরা এক সপ্তাহ ইন্ডিয়া গেটসংলগ্ন বোট ক্লাব এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। তবে এবারের মতো ব্যাপকভাবে পরিবহন ও জনজীবন ব্যাহত করার নজির অতীতে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একসময় বোট ক্লাব ছিল দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বিক্ষোভের পরিচিত স্থান। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাওয়ের সরকারের আমলে বোট ক্লাবের পরিবর্তে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এবার যন্তর মন্তরেও আন্দোলনকারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদের নির্ধারিত স্থান ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাহুল গান্ধীর সমর্থন, বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী চেন্নাই থেকে এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুবসমাজ, প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, ‘মি. মোদি, আপনার যা খুশি করুন। সব পুলিশকে ডাকুন: ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, আপনার যা ইচ্ছা। সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন।’

বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি এবং নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে আন্দোলনকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বক্তব্য এসেছে। দলটির সভাপতি নিতিন নবীন গতকাল বলেন, দেশকে দুর্বল করার দেশি-বিদেশি চক্রান্ত তাঁরা ব্যর্থ করে দেবেন। এ ধরনের বক্তব্যে আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধ

সিজেপির আন্দোলনের মূল দাবি দুটি—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তি এ বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত, এসআইআর প্রক্রিয়ার আইনগত ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা বিচার করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি, কমিশনের ব্যাখ্যা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং সরকারের পাল্টা বক্তব্যের বাইরে এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

এদিকে, বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ আগেই জানিয়েছে, সোমবার তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। সিজেপি ও বিরোধী জোটের দাবি অভিন্ন হলেও তারা এখন পর্যন্ত যৌথ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দুই পক্ষ একযোগে আন্দোলনে নামলে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আদালতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এলে বিতর্ক নতুন দিকে মোড় নিতে পারে। তবে এসব বিষয়ে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপরই পরিস্থিতির গতিপথ নির্ভর করবে।

আন্দোলন কোন দিকে যাবে

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, এসআইআর বাতিলের আহ্বান, বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান প্রচার—সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এর বিপরীতে, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

সরকার ও আন্দোলনকারীদের অবস্থানের এই সংঘাতের মধ্যে আজ রোববারের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শনিবারের ধরপাকড়ের পরও সিজেপি যন্তর মন্তরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে আবারও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রাজনৈতিক বিরোধ ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্কের সমাধান হবে আলোচনার মাধ্যমে, নাকি আন্দোলন ও পাল্টা প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও বাড়বে। সিজেপির পরবর্তী কর্মসূচি, বিরোধী জোটের অবস্থান এবং আদালতের সম্ভাব্য ভূমিকা—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনের পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স