ঢাকা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সিটির টানা ষষ্ঠ জয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


লিভারপুল ০–৩ ম্যানচেস্টার সিটি

মাঠের বাইরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকলেও মাঠের খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যানফিল্ডে স্বাগতিক লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা ছয় ম্যাচে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে দলটি। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও অক্ষুণ্ণ রেখেছে সিটি।

ম্যাচের আগে সিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে স্টেডিয়ামের আশপাশে বিভিন্ন ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে হাজির হন লিভারপুল সমর্থকেরা। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে চলমান বিতর্কের কারণে ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা ছিল। তবে মাঠে সেই চাপ সামাল দিয়ে উল্টো লিভারপুলকেই বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সফরকারীরা।

প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সিটি। ৬২ মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্চ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় লিভারপুল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিন মিনিট পরই গোল করেন আর্লিং হলান্ড। এরপর ৬৮ মিনিটে জেরেমি ডোকু ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে রায়ান শেরকি তৃতীয় গোলটি করে সিটির বড় জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে তিন পয়েন্টের ব্যবধান বজায় রেখেছে সিটি। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিটির আপিলের ফলাফল তাদের শিরোপা দৌড় ও পরবর্তী অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ঘিরে বিতর্ক

একটি স্বাধীন কমিশনের তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি ও ক্লাবটির মালিকপক্ষ আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনে অনিয়ম করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে আয় বেশি এবং ব্যয় কম দেখানোর ঘটনা ঘটেছে, যার আর্থিক পরিমাণ ১২০ কোটি ডলারেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে অভিযোগের বিরুদ্ধে আপিলে সিটি সফল না হলে পয়েন্ট কর্তন কিংবা লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। অতীতে জেতা শিরোপাগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সিটির প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর দাবি, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সময়কালে ক্লাবটির বিপুল ব্যয় তাদের সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। ওই সময়ে পেপ গার্দিওলার অধীনে সিটি একাধিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ট্রফি জেতে। গত মৌসুম শেষে ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব ছাড়েন গার্দিওলা।

গত এক যুগে সিটির কাছে একাধিকবার শিরোপার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে লিভারপুল। তিনবার লিগে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। ফলে সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ঘিরে লিভারপুল সমর্থকদের ক্ষোভও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

২৩ বছর বয়সী লিভারপুল সমর্থক মার্টিন রাইলি ম্যাচের আগে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, অতীতের অনেক স্মৃতি ও অর্জনের মুহূর্ত আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সিটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মাঠের বাইরে উত্তেজনা, মাঠে সিটির আধিপত্য

সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যে অ্যানফিল্ডে পৌঁছায় ম্যানচেস্টার সিটির টিম বাস। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি ম্যাচের আগে সিটির বাসে বোতল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। এবার অবশ্য সে ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে স্টেডিয়ামের আশপাশে সিটির বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন লিভারপুল সমর্থকেরা। বিভিন্ন দোকানে ক্লাবটির আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বিদ্রূপ করা ব্যানার ও স্কার্ফও বিক্রি হতে দেখা যায়। অ্যানফিল্ডের বিখ্যাত ‘কপ’ গ্যালারিতে একটি ব্যানারে সমর্থকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি ও ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের লড়াই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। এবারও ম্যাচটি ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপহার দিতে পারেনি লিভারপুল।

লাল কার্ডের পর ভেঙে পড়ে লিভারপুল

চোটের কারণে দমিনিক সোবোসলাই, অ্যালেক্সান্দার ইসাক ও কোডি গাকপোকে ছাড়াই দল সাজাতে হয় লিভারপুলকে। স্প্যানিশ কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে এটি ছিল দলের প্রথম পরাজয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিকেরা। প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া লুইস কুমাসও গোলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর প্রচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।

এরপর গ্রাভেনবার্চ মাঠ ছাড়লে ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। খেলোয়াড় সংখ্যায় এগিয়ে থাকা সিটি একের পর এক আক্রমণ চালায়। ৬৫ মিনিটে হলান্ডের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর তিন মিনিটের ব্যবধানে ডোকু ব্যবধান বাড়ান। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাঁকানো শট লিভারপুলের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

শেষ দিকে ইয়োস্কো গাভার্দিওলের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার মাধ্যমে বল নিয়ে এগিয়ে যান শেরকি। এরপর গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।

সব মিলিয়ে অ্যানফিল্ডে একতরফা আধিপত্য দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। অন্যদিকে ঘরের মাঠে বড় হারের পাশাপাশি লিভারপুলকে এখন নিজেদের পারফরম্যান্স ও রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়েও ভাবতে হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স