ঢাকা

‘সুবিধাভোগীর তালিকায় সবার আগে এমপির বউ’—হাসনাত আবদুল্লাহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

সার ডিলার নিয়োগ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনিয়মের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, সারের ডিলার নিয়োগে সংসদ সদস্যদের স্বজনেরা যেমন সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তেমনি বিধবা ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতেও প্রভাবশালীদের অগ্রাধিকার পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি নিয়োগপ্রক্রিয়ার মতো করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে এমপির ছেলেও সারের ডিলার হয়েছে, মেয়েও পেয়েছে, শ্যালিকাও পেয়েছে।’

এরপর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এমনকি বিধবা কার্ড যদি দেওয়া হয়, বিধবা কার্ডের টাকা যদি দেওয়া হয়, এখানে এমপির বউও সবার আগে পাবে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি হচ্ছে এমন। বিধবা কার্ড—এমপির বউ সবার আগে বলবে, “আমাকে একটা দাও।”’

তাঁর বক্তব্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে স্বজনপ্রীতি ও প্রভাবশালীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা উঠে আসে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রশ্নও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়েও কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। উপাচার্যের নিয়োগ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর নিয়োগ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাটাকে বোঝেন—উনাকে কোনো টিচার চায় না, উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও চায় না, উনাকে উনার কলিগরাও চায় না; নির্লজ্জের মতো আজকে তালা ভেঙে উনি উনার চেয়ার দখল করেছেন। উনার তো ন্যূনতম লজ্জার একটি বিষয় আছে। উনি কী করছেন, ছাত্রদলের কয়েকজন গুন্ডা নিয়ে উনি রুমের তালা ভাঙছেন।’

তিনি আরও বলেন, সরকার ওই ব্যক্তিকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করা বন্ধ করে দিয়েছেন। শিক্ষকেরাও ক্লাস নেওয়া বন্ধ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য, উপাচার্য প্রায় এক মাস ধরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বসে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে গ্রহণ করতে চান না—এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্বে থাকার সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা।

তবে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পদ নয়, শিক্ষার পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানসিক অধঃপতন দেখা যাচ্ছে। এসব প্রবণতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সমাজে এ ধরনের মানসিক অধঃপতনগুলো হচ্ছে। অধঃপতনগুলোর বিরুদ্ধে আপনাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কিংবা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মানুষের কাছে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের স্বার্থের চেয়ে পদ ও পদমর্যাদা বড় হয়ে উঠছে। এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামত, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়গুলো উঠে আসে।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতারাও বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জোবায়ের সরদার এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের গুরুত্ব—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে আসে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স