ঢাকা

হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা, জবাব পর্যালোচনায় ইরান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

রয়টার্স | দুবাই

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কী জানিয়েছে, তা পর্যালোচনা করছে তেহরান। পর্যালোচনা শেষ হলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা জানিয়েছেন।

বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের বার্তা আদান-প্রদান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে মার্কিন জবাবের বিষয়বস্তু কিংবা ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনার বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন সংঘাতের অবসান ঘটাতে কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর থেকে সংঘাত বন্ধে কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

হরমুজ নিয়ে সাত শর্ত, মতপার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে ইরান সাতটি শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান। গত রোববার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে ইরানের শর্তগুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি।

তবে ওই সাতটি শর্তের বিস্তারিত বিবরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোন কোন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের মতপার্থক্য রয়েছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন জবাব পর্যালোচনার পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরবর্তী অবস্থান জানানো হবে।

এর আগে গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পরে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে আবার হামলা শুরু হয়। সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী সমাধানের পথে অগ্রগতি সীমিত রয়েছে।

এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় ইরান। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার কথাও নিশ্চিত করে তেহরান। তবে মার্কিন জবাব পাওয়ার পর আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে এগোয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বড় বাধা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন চায়, নতুন করে যেকোনো আলোচনা শুরু হলে শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হোক। অন্যদিকে তেহরান মনে করে, আলোচনার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা।

এই ভিন্ন অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার প্রাথমিক বিষয় হিসেবে দেখতে চায়, সেখানে ইরান আগে নৌপথের কার্যক্রম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সমাধান চায়।

ফলে আলোচনার সূচনাতেই কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পর্যালোচনা শেষে তেহরান কী অবস্থান নেয়, তার ওপর পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতার গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু সংঘাত শুরুর পর এ পথে জ্বালানি পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তেল ও এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ কারণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পর্যালোচনা করছে ইরান। পর্যালোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। তবে সাতটি শর্তের বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্ন অগ্রাধিকার, আলোচনায় অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স