ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা।
৮ অক্টোবর দুপুরে বঙ্গভবনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশে অসংখ্য গ্র্যাজুয়েট তৈরি হওয়ার পর কেন বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা, বন্দর, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এমনকি বেসরকারি কোম্পানি পরিচালনার জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্যে দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্মবাজারের চাহিদার সমন্বয় এবং গ্র্যাজুয়েটদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শুধু সনদধারী গ্র্যাজুয়েট নয়, বরং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে সক্ষম দক্ষ জনশক্তি তৈরি হওয়া প্রয়োজন—এ বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
মো. সবুর খান জানান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগের আওতায় আনার লক্ষ্যে নিজস্ব পেটেন্ট উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগ গবেষকদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট অধিকার সংরক্ষণ এবং সেগুলোর বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কার্যকর উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রডাকশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড, ফিশারিজ এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন কর্মমুখী বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে পাঠদান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা এবং কর্মমুখী শিক্ষার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির বিষয়টিও তুলে ধরেন মো. সবুর খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে এ অগ্রগতি অর্জিত হচ্ছে বলে জানান।
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম কবির, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. ইমরান হোসেন, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাসুম ইকবাল, একাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের ডিন অধ্যাপক মোস্তফা কামাল এবং রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নাদির বিন আলীসহ অন্যরা।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী এবং প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উচ্চশিক্ষা ও কর্মবাজারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন, গবেষণার প্রসার এবং উদ্ভাবননির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব এ সাক্ষাতে উঠে আসে। দেশের কৌশলগত ও বিশেষায়িত খাতে দেশীয় দক্ষ জনবলের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পায়।