দিনাজপুরে কুয়াশার আগমনী বার্তা, শীতের আভাস
উত্তরের জনপদ দিনাজপুরে ভোরের আকাশে হালকা কুয়াশার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ধানের খেত, ফাঁকা মাঠ ও সড়কের ওপর কুয়াশার আবরণে বদলে যাচ্ছে সকালের পরিচিত দৃশ্য। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা দেখা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে শীতের আগমন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাইরে বের হওয়া মানুষ থেকে শুরু করে প্রাতঃভ্রমণকারীরাও কুয়াশার উপস্থিতি অনুভব করেন। কোথাও কোথাও সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যায়। তবে কুয়াশার স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়ের। সকাল ৮টার মধ্যেই তা অনেকটা কেটে যায়।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে জেলায় রোদের তীব্রতা ছিল বেশি। এ সময়ে তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আগের দিন বুধবারও তাপমাত্রা একই ছিল।
কৃষকদের মতে, মৌসুমের শুরুতে হালকা কুয়াশা আগাম আলু, শিম, সরিষাসহ বিভিন্ন রবিশস্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কুয়াশার ঘনত্ব ও স্থায়িত্ব বেড়ে গেলে আগাম আলুর ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন কৃষকেরা।
বিরল উপজেলার কৃষক মতিউর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরে রোদ ও গরমের অনুভূতি বাড়লেও বৃহস্পতিবার সকালে আবার কুয়াশা দেখা গেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের হালকা কুয়াশা সবজি চাষের জন্য সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার কৃষকেরাও কুয়াশাকে শীতের আগমনী সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দিনাজপুরে শীতের মৌসুমে সাধারণত তাপমাত্রা কমে আসে। তবে এক দিনের কুয়াশা দেখেই শীতের তীব্রতা বা আগমনের নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করে বলা যায় না। আপাতত সকালের হালকা কুয়াশা উত্তরের জনপদে ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।