ঢাকা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বের করে এনে আনন্দময়, জীবনমুখী ও দক্ষ করে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুই শ্রেণিতে নতুন চারটি ভিন্নমাত্রার পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে। রোববার জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার ও কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে এনসিটিবির মাধ্যমে এসব পলিসি ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে। চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


খেলাধুলা: সুস্থ জীবনধারা ও আত্মরক্ষার কৌশল

চতুর্থ শ্রেণির জন্য প্রণীত ১৪ অধ্যায়ের এই বইটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের শৈশব থেকেই ক্রীড়াচর্চায় আগ্রহী করে তোলা। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ও দাবার মতো বিভিন্ন খেলার মৌলিক নিয়মের পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্য কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মাঠের ইনজুরি ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবহার ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক বাধা পেরিয়ে মেয়েদের ফুটবল দল গঠন ও সফলতার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়ায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশের সংস্কৃতি: ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের মেলবন্ধন

চতুর্থ শ্রেণির ১১টি অধ্যায়ে সাজানো এই বইটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। বর্ণিল চিত্রের মাধ্যমে এতে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্য ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারে যৌথ সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতার আধুনিক রূপ এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার ইতিহাসও স্থান পেয়েছে এই পাঠ্যপুস্তকে।


লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস: ভীতিহীন ও আনন্দময় শিখন

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৬ অধ্যায়ে তৈরি এই বইটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন। প্রচলিত পরীক্ষার চাপ কমিয়ে আনন্দময় অভিজ্ঞতা ও সহপাঠক্রমিক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনকে এর মূল দর্শন হিসেবে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এতে নিজেদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার আলোকেই আনন্দঘন পরিবেশে শিখতে পারবে।


আমার কারিগরি শিক্ষা: ছোট উদ্যোগে বড় সম্ভাবনা

ষষ্ঠ শ্রেণির ৮ অধ্যায়ের এই বইটি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বের বাইরে এনে ‘আমি কী করতে পারি’—সে বিষয়ে স্বাবলম্বী করে তুলবে। এতে সবুজ প্রযুক্তি, টেকসই জীবনযাপন ও চারপাশের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু হওয়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়টি পর্যায়ক্রমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। অন্যদিকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বিষয় দুটি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স