ঢাকা

অভিনেত্রীর ইচ্ছা, মৃত্যুর পর দেহ হোক জৈবসার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

দাফন-দাহ নয়,জৈবসার হতে চান কিম নোভাক


হলিউডের স্বর্ণযুগের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম নোভাক মৃত্যুর পর নিজের দেহকে জৈবসারে পরিণত করতে চান। ৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর ইচ্ছা, তাঁর দেহ থেকে তৈরি জৈব উপাদান দিয়ে গাছ লাগানো হবে। সেই গাছের বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মাঝে নিজের অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা খুঁজে পেতে চান তিনি।


অভিনেত্রীর এই সিদ্ধান্ত প্রচলিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধারণা থেকে কিছুটা আলাদা। সাধারণত মৃত্যুর পর মানুষের মরদেহ দাফন করা হয় অথবা দাহ করা হয়। কিন্তু কিম নোভাকের পছন্দ পরিবেশবান্ধব একটি বিকল্প পদ্ধতি, যেখানে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় মানবদেহকে মাটিসদৃশ জৈব উপাদানে রূপান্তর করা হয়।

গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন


কিম নোভাকের কাছে মৃত্যুর পর গাছের বেড়ে ওঠার সঙ্গে নিজের অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা কল্পনা করা এক বিশেষ অনুভূতি। তিনি চান, তাঁর দেহ থেকে তৈরি জৈব উপাদান ব্যবহার করে গাছ লাগানো হোক। এর মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রকৃতির জীবনচক্রের অংশ হয়ে থাকতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
এই পদ্ধতিকে বলা হয় ন্যাচারাল অর্গানিক রিডাকশন বা প্রাকৃতিক জৈব দেহ-রূপান্তর। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রাকৃতিক উপাদান ও অণুজীবের সহায়তায় মরদেহকে জৈব উপাদানে পরিণত করা হয়। পরে সেই উপাদান গাছ লাগানোসহ উপযুক্ত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পদ্ধতিটির বৈধতা ও প্রয়োগ দেশ ও অঞ্চলভেদে ভিন্ন।


হলিউডের পরিচিত মুখ কিম নোভাক
১৯৩৩ সালে জন্ম নেওয়া কিম নোভাক হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী। বিখ্যাত পরিচালক আলফ্রেড হিচককের চলচ্চিত্র ভার্টিগো-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। এ ছাড়া পিকনিক, দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন আর্ম এবং পাল জোয়ি তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে।


১৯৬০-এর দশকে নিয়মিত অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত জীবন ও চিত্রকলায় মনোযোগ দেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের বাইরে নিজের জীবনদর্শন ও ব্যক্তিগত পছন্দের জন্যও তিনি আলোচনায় এসেছেন।


কিম নোভাকের এই ইচ্ছা মৃত্যুর পর পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁর পরিকল্পনায় মৃত্যুর পরের জীবন বলতে পরকাল নয়, বরং প্রকৃতির জীবনচক্রে অন্যভাবে যুক্ত থাকার একটি ধারণা ফুটে উঠেছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স