ঢাকা

১১ বছর পর লিবিয়ার আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
১১ বছর পর লিবিয়ার আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

দীর্ঘ ১১ বছর পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে লিবিয়ার আকাশসীমার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে লিবিয়ার আকাশপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে দেশটির রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) দেশটির আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। গত ২৩ অক্টোবর এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দোহায় পশ্চিম এশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে আইসিএওর মহাসচিব হুয়ান কার্লোস সালাজার এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতে, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা ও পরিচালন সক্ষমতার ওপর আস্থার প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়ে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আবেদন এসেছে।

২০২৬-২৭ সালের শীতকালীন মৌসুমে, যা আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হবে, প্রতি মাসে লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য ৬১ হাজার ৯৬৮টি ফ্লাইটের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অথচ ২০২৫-২৬ সালের শীতকালীন মৌসুমে দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটের গড় সংখ্যা ছিল মাসে মাত্র দুই হাজার। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লিবিয়ার আকাশসীমায় বিমান চলাচল বাড়লে দেশটির পরিবহন খাতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আকাশপথ ব্যবহারের ফি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে ফ্লাইট চলাচল কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে বিমান সংস্থাগুলোর পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। ২০১৪ সালে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত তীব্র হলে দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক দুটি প্রশাসনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘর্ষের কারণে এয়ারবাসসহ প্রায় ২০টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমানে লিবিয়ায় সীমিতসংখ্যক বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। দেশটি থেকে তিউনিসিয়া, জর্ডান, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও সুদানে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এটি আইসিএওর ১৯৩টি সদস্যদেশের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স