ঢাকা

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিতের দাবি: হাইকোর্টে রিট আবেদন

-
বিগত গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও সরকারি স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে দাবি করা হয়েছে, এই অবৈধ অস্ত্রগুলো সাধারণ মানুষের হাতে থাকা অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা জননিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

রিটের মূল বিষয়বস্তু ও যুক্তি
আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই রিট আবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে:

নিরাপত্তা ঝুঁকি: লুণ্ঠিত হওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো এখনো সম্পূর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনের সময় পেশিশক্তি প্রদর্শন বা সহিংসতার কাজে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে, যা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতা: পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার এবং হারানো অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা হলে আইনশৃঙ্খলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

বিবাদীদের অবস্থান
রিটে নির্বাচন কমিশন (ইসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনকারীরা আদালতে প্রার্থনা করেছেন যেন এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল বা ভোটগ্রহণের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপট
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কয়েক দফায় লুণ্ঠিত অস্ত্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং সেগুলো জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এরপর যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে অনেক অস্ত্র উদ্ধার হলেও একটি বড় অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দায়ের করা রিটটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচীর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

খুব শীঘ্রই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।



কমেন্ট বক্স