কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশ না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের স্থগিতাদেশ চলমান থাকবে। পাশাপাশি আদালত হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বুধবার।
মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বৈধ কিনা এবং তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো নানা আলোচনা চলছে। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
আদালতের শুনানি ও স্থগিতাদেশের বিবরণ
এর আগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স পৃথকভাবে লিভ টু আপিল (Leave to Appeal) করেছিলেন। ৮ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এই আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। মঞ্জুরুল আহসান এ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন, যা বুধবার চেম্বার আদালতে শুনানি হয়।
শুনানিতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন। অন্যদিকে, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার।
আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন প্রথম আলোকে জানান, মঞ্জুরুল আহসানের ব্যবস্থাপনায় থাকা মাম পাওয়ার লিমিটেড প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসির কাছ থেকে ঋণ নেয়। প্রিমিয়ার ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে। আইডিএলসির সঙ্গেও ডাউনপেমেন্টের ভিত্তিতে সেটেলমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। এ অবস্থায় মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র এখনও বৈধ এবং মামলার সঙ্গে নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে তার সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইডিএলসির ঋণ এখনো পুনঃতফসিল হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সিআইবি প্রতিবেদনে মঞ্জুরুল আহসানের নাম থেকে যাবে, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইনজীবী বিভূতি তরফদার জানান, ৮ জানুয়ারি দেওয়া স্থগিতাদেশ চলমান রাখার পাশাপাশি চেম্বার আদালত হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ জানুয়ারি দেড় কোটি টাকা জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন মঞ্জুরুল আহসান, ফলে ব্যাংকটির দৃষ্টিতে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য হচ্ছেন না।
মামলার পটভূমি
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নামে মাম পাওয়ার লিমিটেডের ঋণ সংক্রান্ত বিতর্ক শুরু হয়, যেটি নিয়ে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ঋণখেলাপি হিসেবে নাম প্রকাশ না করার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর আদালত এটি খারিজ করেন। এরপর মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে বিবিধ আপিল করেন। ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন, যাতে তিন মাসের জন্য তার নাম ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে চেম্বার আদালত সেই আদেশ স্থগিত করেন।
এ নিয়ে এখন আদালত স্থগিতাদেশ বজায় রাখার পাশাপাশি হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসানের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সক্ষমতা আইনগতভাবে এখনও সুস্পষ্ট নয়।