ঢাকা

গাজায় ক্ষুধায় ৫৭ ফিলিস্তিনির মৃত্যু, অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ১৮ মাস ধরে অব্যাহত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ৫২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক। এর পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের কারণে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক মানবিক সংকট, যা গাজাকে একরকম দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান অবরোধের ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক শুধুমাত্র ক্ষুধার কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তি।

শনিবার (৩ মে) এক বিবৃতিতে গাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, খাদ্য, ওষুধ, শিশুদের দুধ ও পুষ্টিকর উপকরণ প্রবেশে বাধা থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আল-রান্তিসি শিশু হাসপাতালে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় এক শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

গাজার মিডিয়া অফিস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল খাদ্যকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা ৬৩ দিন ধরে চলমান কঠোর অবরোধের ফলে ২৪ লাখের বেশি মানুষ চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন।

ইসরায়েলের অভিযানের কারণে গাজার ৮০ শতাংশ মানুষ এখন আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হলেও, অবরোধের কারণে এই সাহায্য পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে মার্চ মাসেই এই সংখ্যা ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি পদক্ষেপও চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলাও চলছে।

গাজায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রীর প্রবেশে বাধা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। তারা অবিলম্বে সীমান্ত খুলে দিয়ে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স