গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকায় কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকা অনেক কর্মজীবী মানুষের পক্ষে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন শহরের মসজিদগুলো এবং তার অজুখানাগুলো খোলা রাখা হয়, যাতে পথচারীরা সেখানে সাময়িক আশ্রয় ও বিশ্রাম নিতে পারেন।
তবে প্রশ্ন হলো—ইসলাম কি মসজিদে এভাবে আশ্রয় নেওয়ার অনুমতি দেয়?
ইসলাম ধর্মে মসজিদের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। কোরআনে আল্লাহ বলেন,
“নিশ্চয়ই মসজিদগুলো আল্লাহর জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না।” (সুরা জিন: ১৮)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, মসজিদ মূলত ইবাদতের স্থান, এবং সেখানে ইবাদতের পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি। তবে একান্ত প্রয়োজন হলে, যেমন গরম, বৃষ্টি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়, শর্তসাপেক্ষে সাময়িক আশ্রয় নেওয়া ইসলামী শরিয়তে অনুমোদিত।
“মসজিদকে বিশ্রাম বা ঘুমের জন্য ব্যবহার করা সাধারণভাবে জায়েজ নয়, তবে যদি কোনো ওজর বা প্রয়োজন থাকে, তবে তা করা যেতে পারে।” (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি: ১/২৪৮)
শরিয়তের দৃষ্টিতে, ইতিকাফ ছাড়া সাধারণভাবে মসজিদে ঘুমানো পুরুষদের জন্য মাকরুহ (নিন্দনীয়)। তবে যারা মুসাফির, দরিদ্র বা ভিনদেশি—যাদের থাকার জায়গা নেই—তাদের জন্য প্রয়োজনবশত মসজিদে থাকা বা ঘুমানো জায়েজ।
ইমাম কাসানি (রহ.) বলেন: “ইতিকাফকারী বা মুসাফির হলে মসজিদে ঘুমানো দোষনীয় নয়। অন্যথায়, তা মাকরুহ হিসেবে বিবেচিত হবে।” (বাদায়েউস সানায়ে: ২/৮৯)
বাহরুর রায়েক গ্রন্থে বলা হয়েছে: “সাধারণভাবে মসজিদে ঘুমানো মাকরুহ, তবে ইতিকাফকারী, গরীব বা ভিনদেশি হলে প্রয়োজনীয় কারণে তা বৈধ।” (বাহরুর রায়েক: ২/৪৯)
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মসজিদে আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হলেও, সেটি হতে হবে শর্তসাপেক্ষে ও সম্মানের সঙ্গে। অতএব, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, গরমের তীব্রতা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপদ বিশ্রামাগার বা ‘হিট শেল্টার’ গড়ে তোলা।
ততক্ষণ পর্যন্ত, মানবিক দিক বিবেচনায় মসজিদগুলোকে সাময়িকভাবে বিশ্রামের জায়গা হিসেবে ব্যবহারে আপত্তি নেই—শর্ত হলো, যেন মসজিদের পবিত্রতা, মালপত্র এবং আদব অক্ষুণ্ণ থাকে।